মরে যাচ্ছে সড়কের দু’ধারের গাছ

পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নজরদারি না থাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুই পাশে শতশত গাছ মরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরে যাওয়া এসব গাছ সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি চক্র এবং দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে ও রাতের আঁধারে কেটে নেয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে মহাসড়কের দুই পাশের সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মরে যাওয়া এসব গাছের ডালপালা দুর্বৃত্তরা দিনের বেলাতেই কেটে নিয়ে যাচ্ছে । গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর একসেস রোডের দুই পাশে বিভিন্ন মূল্যবান বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। ১৯৯৩ - ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতুর একসেস রোড নির্মাণের সময় এ সড়কের দুই পাশের বিশাল বিশাল কড়ই, নিম, গজারি, শিলকড়ইসহ নানা প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়। একসেস রোড নির্মাণের পর আবার নতুন করে শিলকড়ই, কড়ই, গজারি, নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ রোপণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ৯/১০ বছরের ব্যবধানে এসব গাছের কোনটা বিশ থেকে ত্রিশ ফুট লম্বা, কোনটা আরও বড় হয়েছে। কিন্তু গত ২/৩ বছর ধরে এসব গাছে মড়ক দেখা দিলেও প্রশাসনের কোন টনক নড়েনি। অথচ প্রতিদিন এই রোড দিয়ে প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তাগণ যাতায়াত করে আসছেন। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরও মরে যাওয়া গাছের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না গ্রহণ করায় সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে । ফলে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অপরদিকে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মির্জাপুর অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদের সঙ্গে বিস্তারিত জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুইপাশে মরে যাওয়া গাছ রক্ষা করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছে।