কাপাসিয়ায় স্বামী-সন্তানসহ গৃহবন্দী এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী
কাপাসিয়া (গাজীপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২২:০৪
সম্পত্তিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মাহিদা খাতুনের (৪৪)। ঘর ভেঙে দেয়া, শতাধিক ফলের গাছ কেটে নেয়াসহ নানা নির্যাতনের পর নিজ স্বজনরা এবার ঘরের মাটিও কেটে নিয়ে গেছে। ভেঙে দিয়েছে টয়লেট। বিপদে আপদে যেসব প্রতিবেশী সবসময় মাহিদার পাশে দাঁড়িয়েছেন তারাও আর ভয়ে এগিয়ে আসছেন না। এই অবস্থায় পিতৃভিটায় একটিমাত্র ঘরে স্বামী-সন্তানসহ প্রায় গৃহবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অসহায় মাহিদা খাতুন। থানা-পুলিশ করেও লাভ হয়নি। এ মর্মান্তিক চিত্র দেখা গেছে, কাপাসিয়া উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ভাকোয়াদী গ্রামে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাহিদার বাবা আহাদ আলী ভূঞা কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় একমাত্র মেয়েকে বসতবাড়িসহ ৫ বিঘা জমি দান করে যান। আহাদ আলীর মৃত্যুর পরপরই মাহিদার আত্মীয়রা-স্বজনরা তার সম্পত্তি জবর দখলের জন্য নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু করেন। এ অবস্থায় জমির নিরাপত্তার জন্য মাহিদা তার স্বামী আ: রাজ্জাকের নামে সম্পত্তি দানপত্র করে দেন। কিন্তু তাতেও ঐ আত্মীয়দের হয়রানি বন্ধ হয়নি। তারা মাহিদার বসতবাড়ি-রান্নাঘরসহ দুটি ঘর, টয়লেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। আলামত নষ্ট করার জন্য বসত ঘরের ভিটার মাটিও কেটে নিয়ে যায়। বাড়ির আঙ্গিনা থেকে একটি টিউবওয়েল পাইপসহ তুলে নিয়ে যায়। কেটে নিয়ে যায় বাড়ির আশপাশে লাগানো শতাধিক গাছ। বর্তমানে মাহিদাকে ঘরের ভেতরই রান্নাসহ সকল প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়। ভয়ে ঘরের বাইরে আসতে পারেন না।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গাছ ও মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আ: রাজ্জাক বাদী হয়ে একই গ্রামের মজিবুর রহমানসহ ৮/১০ জনের নাম উল্লেখ করে কাপাসিয়া থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন। একটি মামলায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি মজিবুরসহ চারজনকে গ্রেফতার করে গাজীপুর কোর্টে পাঠায় পুলিশ। গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্বদানকারী এস আই নাজমুল জানিয়েছেন, গ্রেফতারের সময় তারা কেউ আহত ছিল না। কিন্তু রহস্যজনকভাবে মজিবুর আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে ২৭ ফেব্রুয়ারি কাপাসিয়া থানায় উক্ত মাহিদার স্বামীসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে মারধরের অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাহিদার দুটি মামলায় নিযুক্ত আইনজীবী এডভোকেট নজিবুল হকসহ এলাকার যারা প্রতিবন্ধী মাহিদার পক্ষে কথা বলেছেন তাদের আসামি করা হয়েছে। এ মামলার পর এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যারা বিভিন্ন সময়ে মাহিদার পরিবারকে সাহায্য করতেন তারা এখন মামলার ভয়ে দূরে থাকেন।
এ ব্যাপারে প্রতিকারের আশায় ৮৭ জন এলাকাবাসীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদনপত্র গত ২৪ মার্চ গাজীপুরের পুলিশ সুপারের নিকট দাখিল করা হয়। চাঁদপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৈয়ব আলী ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার সেলিম খান আবেদনের বিবরণ সত্য উল্লেখ করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেন। এ ব্যাপারে মজিবুরের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।