নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২২:৪০
কোম্পানীগঞ্জে যুবলীগের এক নেতা ও তার ভাই কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে চীন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম মারুফকে (৩০)। গত শনিবার গভীর রাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই যুবলীগ নেতার বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
জানা যায়, জাহেদুল ইসলাম মারুফ শনিবার গভীর রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চরপার্বতী ইউনিয়নের চৌধুরীহাট কলেজ রোড সংলগ্ন সিরাজ ম্যানশনের সামনে হামলার শিকার হন। ওত্ পেতে থাকা চরপার্বতী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক ইয়াছিন (৩৫), তার ছোট ভাই আজাদ (৩০) ও সিএনজি চালক জাকিরসহ ১০-১৫জন সন্ত্রাসী হঠাত্ মারুফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। মারুফের চিত্কারে লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে আসলে ইয়াছিন ও আজাদ তার বুকে ও পায়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী মারুফকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। নিহত জাহেদুল ইসলাম মারুফ চরপার্বতী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
জনতা ইয়াছিন ও আজাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে ইয়াছিনের ভাতিজা জহিরুল ইসলাম রাহিন (২০) আহত হয়।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে, ইয়াছিন তার বাড়ির সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টানিয়ে অস্ত্র, মাদক ও নারী ব্যবসা করত। পুলিশ তার বাড়ি থেকে বন্ধুক, পিস্তল, কিরিচ, ধামা, ছোরা, রডসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করে।
এলাকাবাসী জানান, কয়দিন আগে একই এলাকার সাজেদা আক্তার ইয়াছমিনকে ধর্ষণের অভিযোগে ইয়াছিনের ভাই আজদসহ ৫জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। আজাদ মনে করত মারুফ মামলা করতে ইয়াছমিনকে উত্সাহ দিয়েছে। এ কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল জানান, ধর্ষকদের গ্রেফতার করলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটত না। নিহতের পিতা জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে ইয়াছিন, আজাদ ও জাকিরকে প্রধান আসামি করে ২০/২৫জনকে অজ্ঞাত করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। লাশ তদন্তের জন্য নোয়াখালীতে প্রেরণ করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান সাজিদ জানান, ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় তাকে খুন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওপরদিকে চরপার্বতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম জানান, শান্তিপূর্ণ এলাকায় ব্যক্তিগত লালসায় তাকে খুন করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে চৌধুরীহাট বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ রাখা হয় এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভায় করা হয়। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।