মুছাপুর ক্লোজার বাঁধ নির্মাণের একদিন পরই দেবে গেছে
জাফরউল্যাহ পলাশ, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০১৪, ২২:০৭
উপজেলার ছোট ফেনী নদীর তীরে মুছাপুর রেগুলেটর ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার একদিন পর জোয়ারের তোড়ে নদীর মধ্যবর্তী স্থান ১০০ মিটার নিচের দিকে দেবে গেছে। এ ঘটনায় হতাশ হয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টেন কোম্পানি লিমিটেড ২০ মার্চের মধ্যে বাঁধ ক্লোজ করার সব উপকরণ ধীরে ধীরে সরিয়ে নিয়ে যায়। প্রাকৃতিক কারণে বাঁধ ক্লোজ করা সফল হয়নি বলে নোয়াখালীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর) আইএম রিয়াজুল হাসান দাবি করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভুল প্ল্যানের কারণে এ প্রকল্পের বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার এ প্রকল্পটি যে কোনো সময় সাগরে বিলীন হয়ে যেতে পারে। অথচ সাগর থেকে এক কিলোমিটার ভেতরে শক্ত মাটিতে নির্মাণ করলে এ ঘটনা ঘটতো না বলে জানান তিনি।
উপজেলার দক্ষিণে মুছাপুর গ্রামে নদী ভাঙন রোধে উপকূলীয় এলাকায় নির্মাণাধীন ২৩ ভেন্টের রেগুলেটর প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৫ সালে। কোম্পানীগঞ্জের উপকূলে অব্যাহত নদী ভাঙন ঠেকাতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ‘নতুন ডাকাতিয়া ও পুরাতন ডাকাতিয়া-ছোট ফেনী নদীর পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের’ আওতায় কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ২০০৫ সালে প্রথম ১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৩ ভেন্টের রেগুলেটর নির্মাণ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ৮০ হাজার হেক্টর আবাদি জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। খাদ্যশস্য উত্পাদনের ক্ষেত্রে বর্তমান ১৫৫ শতাংশ শস্যের নিবিড়তা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ২২০ শতাংশে। তখন বছরে অতিরিক্ত খাদ্য উত্পাদন হবে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১৩ মেট্রিক টন, যার বর্তমান আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।