খালেদা জিয়া বিএনপির প্রধান থাকতে পারবেন কিনা সংশয়
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০১৪, ২৩:০০
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক ও দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বলায় গতকাল সোমবারও জাতীয় সংসদে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেছেন সরকারদলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তাদের কেউ বলেছেন, খালেদা জিয়া অনেকটাই উন্মাদে পরিণত হয়েছেন। কেউ বলেছেন, খালেদা জিয়া এবার সংসদের বিরোধী দলীয় নেতার পদও হারিয়েছেন। আগামীতে বিএনপির চেয়ারপারসন পদেও থাকতে পারবেন কিনা সেটিও এখন সংশয়। আগেরদিন পয়েন্ট অব অর্ডারে সরকারি ও বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা ওই বক্তব্যের জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়েরের মাধ্যমে তার বিচার দাবি করেন।
আওয়ামী লীগের এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু বলেন, কে স্বাধীনতার ঘোষক, এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টেরও রায় রয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার ম্যান্ডেট ছিল একমাত্র বঙ্গবন্ধুর। কারণ ’৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। সেনা অফিসার থাকাকালে কীভাবে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হন, কে তাকে কীভাবে মনোনয়ন দিলেন? সামরিক অফিসার পদে থেকে নির্বাচন করা যায় না।
বগুড়া-১ আসনের আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে খালেদা জিয়ার ভূমিকা কী ছিল, তা জাতির সামনে তার স্পষ্ট করা উচিত। এটা জানার অধিকার জাতির রয়েছে। ওইসময় বন্দিদশায় থাকলে, কোথায় কী অবস্থায় ছিলেন, তা তাকে পরিষ্কার করতে হবে। খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, উত্পাত না করে ২০১৯ সালের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। বিরোধী দলের পিঠের চামড়া তুলে নেয়ার এতবড় অস্ত্র আপনাকে কে দিয়েছে। এবার বিরোধী দলীয় নেতার পদও হারিয়েছেন, এটাই আপনার গাত্রদাহ। নির্বাচনে না যাওয়ার কারণে বিএনপির তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেই আপনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে, তারা বলছেন-জামায়াত থেকে অর্থ নিয়ে খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান নির্বাচনে যাননি।
সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির এক নেতা বলেছিলেন ‘আগে শুনতাম কুকুরে লেজ নাড়ায়, এখন দেখছি লেজে কুকুর নাড়ায়’। এতদিন পর ওই নেতার বক্তব্যের সত্যতা পেলাম। তারেক রহমান লন্ডনে বসে বললেন-জিয়াউর রহমান দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। পরে খালেদা জিয়াও একই কথা বললেন। তিনি বলেন, বিএনপি এখন প্রেস কনফারেন্স নির্ভর একটি দল।
ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হাসান বাদশা বলেন, খালেদা জিয়া অনেকটাই উন্মাদে পরিণত হয়েছেন। জিয়াউর রহমানকে প্রথম রাষ্ট্রপতি বলার মাধ্যমে এটা প্রমাণিত যে, খালেদা জিয়া সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। তার বক্তব্যের সারমর্ম হচ্ছে- তিনি ’৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র ইতিহাস অস্বীকার করতে চান। আওয়ামী লীগের আব্দুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নন। তিনি হচ্ছেন দেশের প্রথম খুনি রাষ্ট্রপতি।’
জাতীয় পার্টির (জাপা) ফখরুল ইমাম বলেন, নির্বাচনের আগে সমঝোতার লক্ষ্যে জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদও দুই নেত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীও খালেদা জিয়াকে ফোন করেন। কিন্তু তিনি আলোচনায় বসেননি। জাপা এখন সরকারেও আছে, একইসঙ্গে বিরোধী দলেরও দায়িত্ব পালন করছে। এটা একটি নতুন কনসেপ্ট, যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিও আমাদের কাছে নতুন কনসেপ্ট ছিল। ফখরুল ইমাম বলেন, জাপাকে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। সুবিধাবাদীদের বাদ দিয়ে ত্যাগী ও সত্ নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।
জাপার নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী বলেন, রওশন এরশাদ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে এদেশ আজকে আফগানিস্তান হতো। অতীতে বিরোধী দল যেভাবে চলেছে, আমরা সেভাবে চলবো না। সরকার খারাপ কাজ করলে কঠোর বিরোধিতা করবো, আর জনস্বার্থে ভালো কাজ করলে সাধুবাদ জানাবো। বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘বিশ্বচোর’ আখ্যায়িত করে পিরোজপুর-১ আসনের একেএমএ আব্দুল আউয়াল বলেন, তিনি থিপ অব বাগদাদকেও হার মানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ দলীয় সংরক্ষিত আসনের সদস্য এডভোকেট ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী বলেন, দেশের মানুষ শান্তিতে থাকলে বিএনপি অশান্তিতে থাকে। বিএনপি কথায় কথায় বিদেশিদের কাছে নালিশ করে যার কারণে বিএনপিকে এখন বলা হয় ‘বাংলাদেশ নালিশ পার্টি’। উনি মেট্রিকেও ফেল-আন্দোলনেও ফেল। খালেদা জিয়া একজন জঙ্গী। পাঁচটি মিথ্যা জন্মদিনের কারণে তার নাম গিনেস বুকে উঠবে।