গোদাগাড়ী সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙ্গে পড়েছে
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০১৪, ২৩:০২
রাজশাহীর গোদাগাড়ী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিত্সক ও ওষুধ সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙ্গে পড়েছে। চিকিত্সা নিতে আসা রোগীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। চিকিত্সকের অনুপস্থিতিতে জরুরি বিভাগে রোগীদের চিকিত্সা করছে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারীরা।
গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে প্রেমতলী নামক স্থানে অবস্থিত। উপজেলার সব এলাকার রোগীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ১৯৯৯ সালে গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করা হয়। হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর শুরুতে ৯ জন চিকিত্সক, পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ ও রোগীদের পরীক্ষার সব ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু হাসপাতাল চালুর ২ বছরের মাথায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিত্সক ও ওষুধের সংকট দেখা দেয়। টেকনিশিয়ান ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এক্স-রে মেশিনসহ পরীক্ষার সব যন্ত্র নষ্ট হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় প্যাথলজি বিভাগ। হাসপাতালসূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ৪ জন মেডিক্যাল অফিসার কর্মরত রয়েছেন। কর্মরত মেডিক্যাল অফিসার ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ সুমন, ডা. ফজলুল করিম, ডা. শারমিন সুলতানা ও ডা. ফাহামিদা শিরিন রাজশাহী শহরে থেকে হাসপাতালে অফিস করেন। অথচ মেডিক্যাল অফিসারদের জন্য হাসপাতাল ক্যাম্পাসে নির্মিত বাসাবাড়িগুলো পরিত্যক্ত রয়েছে।
গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চিকিত্সা নেয়ার জন্য প্রায় দেড় শতাধিক রোগী চিকিত্সকের জন্য অপেক্ষা করছে। হাসপাতালের কর্মরত কর্মচারীরা জানান, ২ জন চিকিত্সক আসবে বেলা ১১টার দিকে। আর জরুরি বিভাগে একজন রোগীর চিকিত্সা করছে ৩য় শ্রেণি এক কর্মচারী। এই কর্মচারী জানান, চিকিত্সকের অনুপস্থিতিতে তারাই মূলত রোগীদের চিকিত্সা করে থাকে। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মচারী জানান। চিকিত্সকের অনুপস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকের দালালরা রোগীদের ফুসলিয়ে তাদের ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে।
বেসরকারি ক্লিনিক ‘গোদাগাড়ী জেনারেল হাসপাতালের’ ২ কর্মচারীকে রোগীদের ফুসলিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এই বেসরকারি হাসপাতালটির মালিক আনোয়ার হোসেন গোদাগাড়ী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। তিনিই মূলত হাসপাতালে আগত রোগীদের ভাল চিকিত্সার কথা বলে তার মালিকানাধীন ক্লিনিকে যেতে বলেন। তার কর্মচারীরা হাসপাতাল থেকে সঙ্গে করে রোগীদেরকে ক্লিনিকে নিয়ে আসে। আদায় করে নেয় ইচ্ছামত ফি। গোদাগাড়ী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার রমজান আলীর মালিকানাধীন একটি ক্লিনিক রয়েছে উপজেলা সদর ডাইংপাড়া মোড়ে। সততা ইসলামী হাসপাতাল নামক ক্লিনিকে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে আগত রোগীদেরকে ভাল চিকিত্সা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আসতে বাধ্য করে ডা. রমজান আলী বলে রোগীরা অভিযোগ করেন।
এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স আনোয়ার হোসেন ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার রমজান আলী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন তাদের মালিকানাধীন বেসরকারি ক্লিনিকে বলে ভর্তি রোগীরা অভিযোগ করেন। এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ সুমন বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে গোদাগাড়ী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ করা হয় না। সিভিল সার্জন অফিস থেকে যে পরিমাণ ওষুধ পাওয়া যায় তা মাসের শুরুতেই শেষ হয়ে যায়। ৯ জন চিকিত্সকের স্থলে ৪ জন চিকিত্সককে পর্যায়ক্রমে ডিউটি করতে হয়। সেই তুলনায় হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেশি। বর্তমানে হাসপাতালে প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন, এ্যান্টাসিড ও আয়রন ট্যাবলেট সরবরাহ থাকলেও পরিমাণে খুবই কম। তিনি আরও জানান, সিনিয়র স্টাফ নার্স আনোয়ার হোসেন ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।