কেন্দ্র দখল ও ভোট বর্জন থামছে না
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০১৪, ২৩:২৭
উপজেলা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল থামছে না। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এবং কোথাও কোথাও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভোট কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন্দ্র দখল, জালভোট, এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে নির্বাচন বর্জন করছেন প্রার্থীরা। এদের অধিকাংশই বিরোধী দলীয় সমর্থক এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে কমপক্ষে চার শতাধিক ভোট কেন্দ্র দখলের সংবাদ পাওয়া গেছে। কেন্দ্র দখলের প্রতিবাদে ৭৩টি উপজেলার মধ্যে অন্তত ৬০ চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। আর নির্বাচন স্থগিত হয়েছে ২৫টি কেন্দ্রর। এর মধ্যে বরগুনার আমতলীতে ৭টি কেন্দ্র স্থগিত রয়েছে। কারচুপি ও অনিয়মের প্রতিবাদে হরতাল ঘোষণা হয়েছে ২৩টি উপজেলায়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পুলিশের গুলিতে ১ জন নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুরে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ভোর রাতে সদরের উত্তর দুর্গাপুর গ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কবীর হোসেন (৩০) নামের এক যুবলীগ নেতা। এখানে পৌর মেয়র আবু তাহেরের ছেলে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সালাউদ্দিন টিপুর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কোনো এজেন্টই কোন কেন্দ্র ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের সহায়তায় দুপুরের আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে যায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায়। মৌলভীবাজারের রাজনগরে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুইজন ভোটারের মৃত্যু হয়েছে। ফেনীর ছাগলনাইয়ায়ও কেন্দ্র দখলের উত্সব হয়েছে। এ উপজেলার একটি কেন্দ্র প্রিসাইডিং অফিসার নিজেই ১৪শ’ ব্যালট পেপারে সিল মেরেছেন। সাংবাদিকরা ঐ প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেট এসে প্রিসাইডিং অফিসারকে উদ্ধার করেন। গাজীপুরের শ্রীপুরে সহিংসতা কম হলেও নিরব ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মেরেছেন সরকার সমর্থক প্রার্থীর কর্মীরা। গাইবান্ধায় আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে এক কলেজ শিক্ষককে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে সরকারি দল আওয়ামী লীগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনেছে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আজ জেলায় হরতাল ডেকেছে। এছাড়া বরগুনা এবং চুয়াডাঙ্গার দুইটি উপজেলায়, সাতক্ষীরা, রাঙ্গামাটি, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে হরতাল ডেকেছে বিএনপি। তবে এত কিছুর পরেও অনেকস্থানেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পঞ্চম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গতকাল সোমবার ৭৩টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আইন-শৃংখলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। এর বাইরে প্রতি দুইটি ইউনিয়নে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই অনেকস্থানে কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটেছে।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ভোট বর্জনকারীর সমর্থকদের উপর পুলিশের গুলি
ঘাটাইল সংবাদদাতা জানান, সরকার দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আগের রাতেই কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ১০ প্রার্থী নির্বাচন ভোট বর্জন করেছেন। মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদকালে বর্জনকারী চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানের ক্ষুব্ধ সমর্থকদের উপর পুলিশের গুলির চালানোর ঘটনায় কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন।
গোপালপুর সংবাদদাতা জানান, কড়িয়াটা কেন্দ্রে সরকার দলীয় কর্মীরা ব্যালট পেপার ছিনতাইকালে পুলিশ ৫ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এতে ৫ জন আহত হয়। হাদিরা হাইস্কুল কেন্দ্র আওয়ামী লীগ কর্মীরা হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বিএনপি নেতা মৌলভী আব্বাস আলী রশিদের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে।
মির্জাপুর সংবাদদাতা জানান, আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মীর এনায়েত হোসেন মন্টুর কর্মী সমর্থকরা কয়েকটি ইউনিয়নের ১৫ থেকে ২০টি কেন্দ্র দখল করে ব্যাপক জাল ভোট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের হরিদ্রাচালা, গোড়াই নাজিরপাড়া, সোহাগপাড়া, মেধাকুঞ্জ কিন্ডার গার্টেন, দুপুর আড়াইটার দিকে ওয়ার্শি ইউনিয়নের বন্দে কাউলজানি কেন্দ্রে গিয়ে ব্যাপক জাল ভোট দিতে দেখা যায়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে বহিরাগতদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে।
সাতক্ষীরায় আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, আগে থেকেই ব্যালট কেটে বাক্স ভর্তি করা, এজেন্টদের বের করে দেয়া, ভোটারদের ব্যালট না দেয়া, সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্র যেতে বাধা, মারপিঠ, প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর, তালা, দেবহাটা উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের সকল পদ থেকে বিএনপি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে, ভোট ডাকাতি, বোমাবাজি, সন্ত্রাস, কেন্দ্র দখল, গ্রেফতার, হামলা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা ও তালা উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা এ হরতালের ডাক দিয়েছে জেলা জামায়াত।
এদিকে তালা উপজেলার হারুন-অর-রশিদ কলেজ কেন্দ্র ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক জামায়াত কর্মী আহত হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাচনে সরকারি বালক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনারস প্রতীকে সিল মারা ৫ শতাধিক ব্যালট উদ্ধার করেছে পুলিশ। দেবহাটা উপজেলার মিদ্ধেরপাড়া সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয় কেন্দ্র একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
সিরাজগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত অর্ধশতাধিক
বেলকুচি সংবাদদাতা জানান, গতকাল বিকালে বেলকুচি উপজেলায় উল্লাপাড়া জিএসকেএল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ কনস্টেবল বেলাল হোসেন, জামায়াত কর্মী মওলানা ইয়াকুব আলী, আওয়ামী কর্মী চান আলী মেম্বার, শাহ আলমসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে আওয়ামী লীগ কর্মী জাহাঙ্গীরকে গুলিবিদ্ধ হন। এদিকে উপজেলার গোপালপুরে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় হরতাল আহবান
কসবা সংবাদদাতা জানান, নির্বাচন চলাকালে বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রাথীরা পৃথক পৃথক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। আজ মঙ্গলবার অর্ধদিবস হরতাল আহবান করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটিতে আওয়ামী লীগের হরতাল আহবান
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, জাল ভোট ও কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই ঘটনায় বিভিন্ন কেন্দ্র আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থকদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। আজ রাঙ্গামাটিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগ।
গাইবান্ধার দুই উপজেলায় ব্যালট ছিনতাই
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, দুপুর পৌনে একটার দিকে ভোট গ্রহণ চলাকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে অর্ধশত ব্যালট ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। দায়িত্বে অবহেলার জন্য ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আব্দুস ছামাদকে প্রত্যাহার করা হয়।
মুন্সীগঞ্জে রিভলবার উদ্ধার
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, টঙ্গীবাড়ি ও সিরাজদিখান উপজেলায় সংঘর্ষ, হামলা, ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশসহ অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছে। সেনাবাহিনী হামলাকারীদের ব্যবহূত রিভলবার উদ্ধার করেছে।
টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর হামলায় উপজেলার পাচগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রর বাইরে মাই টিভির ক্যামেরাম্যান কামাল ও মুন্সীগঞ্জ টাইমসের তুষার নামে দুই ফটো সাংবাদিক আহত হন। সন্ত্রাসীরা তাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।
এদিকে লৌহজং উপজেলা বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান খান অনিয়মের নানা অভিযোগ এনে দুপুর ১টায় ভোট বর্জন করেছেন।
রূপগঞ্জে পুলিশের গুলি
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় দুটি ভোট কেন্দ্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট প্রদানের প্রতিবাদ করলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীদের উপর গুলি ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে ২০ জন।
এদিকে আড়াইহাজার উপজেলায় নির্বাচন বর্জন করেছে ১৯ দলের প্রার্থীরা। আজ আড়াইহাজারে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে সোনারগাঁয়ে ৫টি ভোট কেন্দ্র ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
কলাপাড়ায় আ’লীগ ছাড়া অন্যসব প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানায়, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪১টি ভোট কেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলের ৯ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন।
নরসিংদীতে ৩ কেন্দ্র ভোটগ্রহণ স্থগিত
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে ব্যালটে সীল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, গুলিবর্ষণ, জালভোট প্রদানের মধ্য দিয়ে নরসিংদী সদর, মনোহরদী ও রায়পুরা উপজেলায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ভাংচুরের অভিযোগে সদর উপজেলার গদাইরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাগদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নিসুন্দরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজ ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সীল মারায় বাধা দিলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা একজন আনসারকে মেরে আহত করে। এ ঘটনায় পুলিশ ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। সরকার সমর্থকরা কেন্দ্রটি দখলে নিয়ে নেয়।
মনোহরদী উপজেলার ঘোষগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবাধে সীলমারার সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বীরুর ভাই হীরু, বাবু, ফটো সাংবাদিক বেলালকে মারধর করে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। বাগীবাড়ী, পীরপুর ও ধরাবান্দা কেন্দ্র জোরপূর্বক দখলে নিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীরা প্রকাশ্যে সীল মারে। এ সময় তারা বিএনপি কর্মী আব্দুল্লাহ ও জামায়াত কর্মী ফারুককে মারধর করে এবং কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়।
এদিকে রায়পুরা উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এড. সামসুল হক নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমানের পক্ষে তার সমর্থকরা কেন্দ্র দখল ও অবাধে প্রকাশ্যে সীল মেরেছে।
পাবনায় ককটেল বিস্ফোরণ ও সাংবাদিকের উপর হামলা
পাবনা প্রতিনিধি জানান, ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে সদর উপজেলার ১৪১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৫টি কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচন দাবি করেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাহমুদুন্নবী স্বপন। অপরদিকে সদর উপজেলার পয়দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির ছবি তোলার সময় বাংলাভিশনের ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে সরকার দলীয় সমর্থকরা। এ সময় ক্যামেরাপার্সনসহ দুই সাংবাদিককেও মারধর করে তারা। এছাড়া ভোটগ্রহণ চলাকালে ৯টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার চরভবানীপুর ভোট কেন্দ্র দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
দশমিনার ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা সংঘর্ষ, আটক ১
দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন আহত হয়।
হাতিয়ায় ৩ রাউন্ড গুলি
হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, হাতিয়ায় বিএনপি ও আ’লীগ সমর্থক সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।
গোয়ালন্দ উপজেলায় ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, দুর্গম চরাঞ্চলের কয়েকটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়া ও ভোট কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর আনারস প্রতীকে সীল মেরে ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ে দেয়। সাময়িক ভাবে তাদের আটক করা হলেও কর্তব্যরত পুলিশ পরে তাদের ছেড়ে দেয়।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, সুবর্ণচর উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, সব কয়টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা প্রশাসনের সহযোগিতায় তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যালেটে সিল মারে। রবিবার পুলিশ তার ১৯ জন এজেন্টকে গ্রেফতার করে এবং কর্মীদেরকে ভয়-ভীতি দেখায়।
মৌলভীবাজারে আতঙ্কগ্রস্ত ২ ভোটারের মৃত্যু
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, জেলার রাজনগর উপজেলার গোবিন্দবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও রাজনগর পোর্টিয়াস উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুই ভোটারের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন যথাক্রমে শামীম ইসলাম (৪৬) ও সুন্দর আলী (৬০)।
লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতা নিহত, ভোট বর্জন
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বিক্ষিপ্ত বোমাবাজি, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল ভোট কারচুপির মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুরের চার উপজেলা- সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ ও রামগতিতে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোরে সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের দুর্গাপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পোস্টার লাগাতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে কবির হোসেন নামের এক যুবলীগ নেতা নিহত এবং আরো ২ যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। সহিংসতার কারণে রায়পুর উপজেলার উদমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঝাউডগি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
দুপুর ২টার দিকে জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার জামিরতলী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় তারা ব্যালট বাক্সে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষণ করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ কেন্দ্রেই পৌর মেয়র আবু তাহেরের পুত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সালাউদ্দিন টিপুর প্রতিপক্ষের কোন এজেন্টই নেই।
তার এজেন্ট না দেওয়া, কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদান, তার বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে ভোট বর্জন করেছেন। একই অভিযোগে রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিপি আব্দুর রহিম ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, রায়পুরে সরকার, ১৯ দল ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছে। ঝাউডুগি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কনসটেবল আবু হানিফ আহত হয়েছেন।
ফেনীতে সিলমারা ১৪শ’ ব্যালট পেপার উদ্ধার
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ছাগলনাইয়া উপজেলায় পাঠানগড় নুরুলহক প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বহিরাগতরা প্রিসাইডিং অফিসার আহম্মদ হোসেনের কাছ থেকে এক হাজার ৮০০ ব্যালট ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রায় এক ঘন্টা ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। পরে ছিনতাইকৃত ব্যালট পেপার বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। উপজেলার কন্টাক্টর মসজিদ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রিসাইডিং অফিসার জীতেন্দ্র কুমারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট প্রতীকে সীল মারা এক হাজার ৪০০ ব্যালট পেপার উদ্ধার করে। এতে ঐ কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। রাধানগর আনোয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে বহিরাগত দুষ্কৃতিকারীরা অস্ত্রের মুখে কেন্দ্র দখল করে একচেটিয়া জাল ভোট দেয়। ঐ কেন্দ্রেরও ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
বরগুনায় ৩০ প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন, হরতাল
বরগুনা জেলা দক্ষিণ ও উত্তর এবং বামনা ও পাথরঘাটা সংবাদদাতা জানান, জেলার চারটি উপজেলায়- সদর, বামনা, পাথরঘাটা ও আমতলীতে ৩০ প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। একইসাথে এ উপজেলাগুলোতে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে আজ মঙ্গলবার হরতাল ডেকেছে বিএনপি। বরগুনা সদর উপজেলার অর্ধশতাধিক কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আব্বাস হোসেন মন্টু মোল্লা’র পক্ষে কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. রেজবুল কবির ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম পলাশ, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. হালিম। বামনা উপজেলায় বিএনপি’র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ রানা, স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনবার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সৈয়দ মানজুরুর রব মুর্তাযা আহসান নির্বাচন বর্জন করেছেন। পাথরঘাটা উপজেলায়ও বিএনপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবিবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন পান্না ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম চৌধুরী জেবু ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মল্লিক মোহম্মদ ফারুক ও ইমাম হোসেন বাবুলও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
আমতলী উপজেলার মোট ৫৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জি.এম দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে ভোট কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জালাল আহমেদ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সামসুদ্দিন আহমেদ ছজু, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মোসা. নাসিমা বেগম, বিএনপি সমর্থিত ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নূরুল ইসলাম মৃধা, মো. ইদ্রিস, ইসলামী আন্দোলনের মো. শাহ আলম, বিএনপি সমর্থিত মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারহানা ইয়াসমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা. মনিরা বেগম।
শ্রীপুরে কেন্দ্র দখল করে ভোট
শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে শ্রীপুরে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকালে প্রায় ৩ ঘন্টা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের পর বেলা ১১টার পর থেকে পৌরসভাসহ প্রায় ৩০টি কেন্দ্রে কাপ-পিরিচ প্রতীকের এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে আনারস প্রতীকে ভোট দেয় প্রতিপক্ষের সমর্থকরা। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃংখলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আক্তাপাড়া কেন্দ্রে বিশৃংখলা সৃষ্টি করায় আনারস প্রতীকের এজেন্ট রমজান (২৫) এবং বৈরাগীরচালা কেন্দ্রে বিশৃংখলা সৃষ্টি করায় মশলা মজিবর (৩৮) ও জামাল উদ্দিনকে (২৬) আটক করা হয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আনারস প্রতীকের সমর্থকরা গাড়ারন খলিলিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এসময় পুলিশ, আনসার, নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রাণের ভয়ে ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার ফেলে সরে গেলে কেন্দ্র দখলকারীরা আনারস প্রতীকে সিল মারে। এছাড়া দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ত্রিমোহনী বুরুজঢালী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সরকার সমর্থক চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল জলিলের পোলিং এজেন্ট খাদিম আলী প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল মারেন। পরে সাংবাদিকরা পুলিশকে খবর দিলে তাকে আটক করা হয়। সাময়িক ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়।
প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেও কয়েকটি কেন্দ্রে বিজয়ী
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন সবুজ দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশ গত ২৪ মার্চ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। কিন্তু তারপরেও তিনটি কেন্দ্রে তিনি সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন।
গফরগাঁওয়ে ৬০ কেন্দ্র দখল
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ও গফরগাঁও সংবাদদাতা জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে, রাস্তায় রাস্তায় সশস্ত্র ব্যারিকেড দিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা আর সরকার দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর নেতা-কর্মীদের ভোট কেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে গফরগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুশফিকুর রহমানসহ ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৪ জন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ১ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন।
সকালে উপজেলা পরিষদ বিদ্যানিকেতন কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন বাদলের কর্মী সমর্থকরা অন্যান্য প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়। পৌরএলাকাসহ উপজেলার কমপক্ষে ৬০টি ভোট কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর করে, অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দিয়ে কেন্দ্রগুলো দখল করে নেয়। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুনাহার শাহানা অভিযোগ করেন, লংগাইর, পাইথল, মশাখালী ও পৌরশহরের অনেক কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিজেরাই ব্যালটে সরকার দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সিল মারে।
চুয়াডাঙ্গার ২ উপজেলায় বর্জন ও হরতাল
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, জেলার চূয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। একইসাথে দুই উপজেলাতেই আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল ঘোষণা করেছে বিএনপি।
মাদারগঞ্জে নির্বাচন বর্জন
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের মারধর ও জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ এনে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফায়েজুল ইসলাম লাঞ্জু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। নূরুন্নাহার মির্জা কাশেম মহিলা ডিগ্রী কলেজে সকালে ভোট দেয়ার সময় স্থানীয় জামায়াত নেতা মির্জা মাজেদকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। পশ্চিম জটিয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়।
কুমিল্লায় ৫ গুলিবিদ্ধসহ
আহত ৪৫
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কেন্দ্র দখল, এজেন্ট বের করে দেয়া, জাল ভোট, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণসহ নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে কুমিল্লার চান্দিনা ও মুরাদনগর উপজেলার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। চান্দিনায় ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয় উপজেলায় কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছে। চান্দিনায় ১৯ দল সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এলডিপি নেতা অধ্যাপক আবু তাহের ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মফিজুল ইসলাম ভুঁইয়া এবং মুরাদনগর উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত গোলাম কিবরিয়া সরকার নির্বাচন বর্জন করেছেন। দুপুরে চান্দিনা উপজেলার ধেরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জোরপুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট চলাকালে বিএনপি-এলডিপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে জোয়াগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মা চন্দ্রবান বিবি (৮০), ধেরেরা গ্রামের সবুজুল হকের পুত্র সুমন, হামিদের পুত্র আলমগীর হোসেন, জোরপুনি কেন্দ্রে যুবদল নেতা নজরুল ইসলাম ও ছাত্রদল নেতা শাহজালাল গুলিবিদ্ধ হন।