সূয়াপুর নান্নার উচ্চ বিদ্যালয়
নদীয়া হুসাইন নদী, দশম শ্রেণি
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ১৮:২১
আমি নদীয়া হুসাইন নদী ঢাকা জেলার অন্তর্গত ধামরাই উপজেলার সূয়াপুর নান্নার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের একজন ছাত্রী। উপজেলার অন্যতম এই প্রাচীন বিদ্যালয়টি ১৯৩৯ সালে স্থাপিত হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ২৪ জন এবং শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১৬০০ জন। আমাদের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম একজন এম,এস,এস,বি,এড। অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দও সুযোগ্য। ৬.১৪ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত আমাদের এ বিদ্যালয়ের সামনে রয়েছে একটা বড় খেলার মাঠ এবং পেছনে রয়েছে ঘাট বাঁধানো বড় একটি দীঘি। রয়েছে সুসজ্জিত বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব এবং পৃথক নামাজঘর। উঁচু সীমানা প্রাচীর বেষ্টিত আমাদের বিদ্যালয়টির পরিবেশ খুবই মনোরম। পাঠ আদান প্রদান, সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধূলা সহ সবকিছুতেই শিক্ষকবৃন্দ আমাদের প্রতি আন্তরিক ও যত্নশীল। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। ২০১৩ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন এবং পাশের হার ছিল ৮২.৪৬%, জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৩ জন এবং পাশের হার ছিল ৯২.১৮%। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি চলে নানা প্রকার আচার অনুষ্ঠান। আমাদের বিদ্যালয়টি একটি আদর্শ বিদ্যালয়। তবে শিক্ষার্থীদের সংখ্যার তুলনায় ভবনের সংখ্যা কম হওয়ায় এ অসুবিধা লাঘবের জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আজীবন দাতা সদস্য শিক্ষানুরাগী ইকবাল আহমেদ তাঁর পিতার স্মরণে নিজ উদ্যোগে একটি ভবণ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে আজীবন দাতা সদস্য সফল ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী মো. আজিজুর রহমান প্রধান উদ্যোগী হয়ে অন্যান্যদের সহযোগিতায় আরও একটি ভবন নির্মাণ করেন। এছাড়াও মাঠ ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও বর্ধিত ভবন নির্মাণে প্রাক্তন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমদ সহযোগীতা করেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আজীবন দাতা সদস্য শিক্ষানুরাগী কে, এম, আসাদুজ্জামান, সকল সদস্য, শিক্ষক, সম্মানিত অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় বিদ্যালয়টির সুনাম চার দিকে ছড়িয়ে রয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক মরহুম ড. এম.এ. জব্বার, আমেরিকার হার্বার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারি অধ্যাপক প্রয়াত ড. মধুসূদন মালো, যুগ্ম-সচিব ড. শাহাদাত্ হোসেন মাহ্মুদসহ আরও অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গ এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন। চারপাশে অফুরন্ত সবুজের সমারোহ ও গ্রামীণ পরিবেশে সূয়াপুর নান্নার উচ্চ বিদ্যালয়টি আমার প্রিয় বিদ্যালয়, এটি আমাদের গর্ব।