শফিক হাসান
ছোট্ট জুঁইয়ের অপার বিস্ময় তার বাবা আকমল হোসেন। তিনি সব দিক দিয়েই ব্যতিক্রম। সেদিন বাবার সঙ্গে বাজারে গিয়েছিল জুঁই। মুদি দোকানদার কাকু কেনা জিনিসগুলো আলাদাভাবে ঠোঙ্গা ও পলিথিনে মুড়িয়ে দিলেন। বাবা এক-এক করে সব মোড়ক খুলে ফেরত দিলেন দোকানদারকে। সওদাগুলো নিজ হাতে ভরলেন পরিবেশবান্ধব চটের ব্যাগে।
বাসায় ফেরার পথে বাবার আঙুল ধরেছিল জুঁই। কৌতূহলী জুঁই প্রশ্ন করল—‘আচ্ছা বাবা, তুমি দোকানের ঠোঙ্গাগুলো ফেরত দিলে কেন? অন্যরা তো এমনটি করেনি!’
অবুঝ প্রশ্নে বাবা হাসলেন। বললেন, ‘ঠোঙ্গাগুলো এনে কী হতো, ফেলেই তো দিতাম! এতে একদিকে অপচয় হতো অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ ঘটতো।’
কীভাবে পরিবেশ দূষিত হয়—বাবা সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলেন জুঁইকে। বাবা কখনো খাবার নষ্ট করেন না, বাড়তি কথাও বলেন না।
পরদিন বাবা তাকে নিয়ে গেলেন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে। খেতে বসার পর জুঁই দেখল ছোট-বড় অনেকেই গাপুস গুপুস করে খাচ্ছে। খাওয়ার সময় নষ্ট হচ্ছে অনেক খাবার। ভাত ছিটকে পড়ছে বাইরে; অনেকে যতটুকু খেতে পারবে, নিয়েছে তারচেয়ে অনেক বেশি। পরে খেতে না পেরে শেষ না করেই উঠে যাচ্ছে।
বাবা খাবার নিলেন কম, জুঁইকেও দিলেন পরিমাণমতো। একটু ভাত-তরকারিও নষ্ট হয়নি। বরং প্লেটে লেগে থাকা ক্ষুদ্র দানার ভাতগুলোও কুড়িয়ে খেলেন। আঙুল চেপে প্লেটে লেগে থাকা ঝোলটুকুও খেল জুঁই।
সেদিন রাতে বাসায় চায়ে চুমুক দিয়ে বাবা বললেন, ‘খাদ্যের অভাবে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত থাকে। তোমার মতো শিশুরাও কষ্ট পায়। বাংলাদেশের কৃষকরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল উত্পাদন করেন। তাঁদের কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট করা উচিত নয়। এটা একধরনের অমানবিক কাজ। চিন্তা করো তো, একদিকে তুমি অবলীলায় খাবার নষ্ট করছো, অন্যদিকে সেই খাবারের অভাবেই কষ্ট পাচ্ছে অসংখ্য মানুষ!’
ব্যাখ্যা শুনে বাবাকে নিয়ে গর্ব হলো জুঁইয়ের। শক্ত করে বাবার হাত জড়িয়ে নিয়ে বলল, ‘বাবা, আমিও তোমার মতো সত্যিকারের মানুষ হবো। কখনোই অপচয় করবো না!’