সংগ ঠ ন ‘ক ম্পা স’
আমরা নাটক
ভালোবাসি
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ১৮:২৪
বিশ্বদ্যািলয়ের কিছু নাটকপ্রেমী শিক্ষার্থীর নাটকের প্রতি অপরিসীম ভালবাসায় এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে ‘কম্পাস নাট্য সম্প্রদায়’
সেমিস্টার পদ্ধতিতে কারিগরি বিষয়ক পড়ালেখায় সারাদিন ক্লাস, প্রাক্টিক্যাল, লাইব্রেরী ওয়ার্ক, সারা বছর জুড়ে পরীক্ষা বলতে গেলে খুব বেশি এটা সময় বের করার উপায় নেই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। সকাল ৮টায় ঘুম থেকে উঠেই দৌড়াতে হয় ক্লাসের পিছনে একদম বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত । এর মাঝে একটুও দম ফেলার সুযোগ নেই কারো। এত কিছুর পরও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে নেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্বদ্যািলয়ের কিছু নাটকপ্রেমী শিক্ষার্থীর নাটকের প্রতি অপরিসীম ভালবাসায় এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে ‘কম্পাস নাট্য সম্প্রদায়’ নামক একটি নাট্য সংগঠন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যখন ক্লাস পরীক্ষা শেষ করে শরীর থেকে ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে আড্ডা দেয় বা ক্যাম্পাসময় ঘুরে বেড়ায় তখন নাটকের প্রতি ভালোবাসা থেকে মহড়াকক্ষে উপস্থিত হয় কম্পাস কর্মীরা। শত প্রতিকূলতা ও পড়ালেখার প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও চলে মহড়া। তারপর একদিন আসে নাটক মঞ্চায়নের মাহেন্দ্রক্ষণ। মাহেন্দ্রক্ষণে এতদিনে পরিশ্রমের ফসল নাটকটি দর্শকের সামনে মঞ্চস্থ করে লাভ করেন অসীম প্রশান্তি। বিভিন্ন জাতীয় দিবসেও কম্পাস মঞ্চস্থ করে বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক নাটক। মাত্র কয়েকদিন পূর্বে সংগঠনটি একে একে সম্পন্ন করেছে একশতম নাটকের সফল প্রযোজনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা সবাই উপভোগ করে কম্পাসে সেঞ্চুরী পরিবেশনা।
১৯৮৯ সালে নাট্য সংগঠন কম্পাসের যাত্রা শুরু হয় অনেকটা নাটকীয়তা দিয়েই। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ফয়েজ আহমেদ, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের, লেখিকা ও কবি তসলিমা নাসরিনের উপস্থিতিতে আতা মিয়া নামক একজন সাধারণ রিকশা চালকের প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয় কম্পাসের। বিদেশি অসুস্থ সংস্কৃতির অনুকরণ থেকে মুক্ত হয়ে সুস্থ ধারার নাট্যচর্চা তৃষ্ণা থেকে ‘নাটক হোক সমাজ পরিবর্তনের সূতীক্ষ হাতিয়ার’ এই শ্লোগানকে পুঁজি করে এম. এ. সবুরের নেতৃত্বে শুরু হয় কম্পাসের পথচলা। তার পর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কম্পাসকে। ‘চর দুখীয়া’ নামক নাটক দ্বারা শুরু করে হাঁটি হাঁটি পা পা করে ২৬ বছরে উপহার দিয়েছে ৪৩টি নাটকের ১শ’টি সফল প্রযোজনা।
আর এই সুদীর্ঘ তালিকায় দেশের খ্যাতিমান নাট্যকারের নাটকের পাশাপাশি নবীন নাট্যকাদেরও অনেক নাটক। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, হুমায়ুন আহমেদ, শৈলেশ গুহ নিয়োগী, এস. এম. সোলায়মান প্রমুখসহ কম্পাস সদস্য এম. এ. সবুর, জার্জীস আহমেদ, খান মোঃ সাইফুল ইসলাম, বিপ্লব কুমার প্রামাণিক এবং মোঃ গোলাম ফজলে রাব্বানীর। কম্পাসের প্রযোজনার মধ্যে যে সব নাটক সবচেয়ে বেশি দর্শকনন্দিত হয়েছে তার মধ্যে মেরাজ ফকিরের মা, আয়নায় বন্ধুর মুখ, সাত ঘাটের কানাকড়ি, ফাঁস, বিবাহ বিভ্রাট, কবর, জমছে খেলা সারাবেলা, আরতি, বর্ণচোরা, ইঙ্গিত, ভদ্দরনোক, ১৯৭১, ঠিকানা, ত্যাগ, শেফালী, লোডশেডিং, চেনা মুখোশ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
কম্পাসের এই গৌরবময় ইতিহাসের পেছনে রয়েছে কর্মীদের একাগ্রতা, নিষ্ঠা, শ্রম আর নাটকের প্রতি ভালোবাসা। এর পাশাপাশি কম্পাসের সাথে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকের সৃজনশীল, সাহসিকতা ও মননশীলতা। তারা বিভিন্ন প্রতিকূলতা পরিবেশে সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে কম্পাসের কান্ডারি হয়েছে। বর্তমানে কম্পাসের সভাপতির দায়িত্বে আছে পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ ইলিয়াস হোসেন।