পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সুইচিং ব্যবস্থা

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ক্রিপটিক্স গ্রুপ আবিষ্কার করল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সুইচিং ব্যবস্থা। এ ডিভাইসটি পরিবেশ থেকে তাপমাত্রা সেন্সর করবে এবং এই তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক্যাল ডিভাইস যেমন এসি, ফ্যান, হিটার, লাইট ইত্যাদি অন অথবা অফ করতে সক্ষম। ডিভাইসটি বিভিন্ন তাপমাত্রায় ভিন্ন ভিন্ন কম্বিনেশনে ইলেকট্রিক্যাল সুইচিং করবে। একটি ডিভাইস থেকে বিভিন্ন কম্বিনেশনে একই সাথে ১৬টি সুইচিং সম্ভব। বেশী জায়গা নিয়ে যেসব ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান অথবা খামার রয়েছে যেখানে অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অথচ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অনেক নিখুঁত এবং দামী যন্ত্র যেমন বৃহত্ এসি বা এয়ার হিটার কেনার সামর্থ্য নেই। এক্ষেত্রে এই যন্ত্রটি কার্যকরী হবে। কারণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য যন্ত্রটি এক্সিসটিং ইকুইপমেন্টগুলো ব্যবহার করবে; কোন নতুন দামী যন্ত্র কেনার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে এসব কাজ সাধারণত ম্যানুয়ালী মানুষ দ্বারা পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি মনিটর করেন তিনি তাপমাত্রা সম্পর্েক একটি ধারণা করেন এবং তার উপর ভিত্তি করে এসি, হিটার, ফ্যান, লাইট ইত্যাদি অন বা অফ করেন। এ যন্ত্রটি ব্যবহার করলে কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নিয়ন্ত্রিত হবে। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বর্পূণ অটোমেশন। যন্ত্রটি সম্পর্কে উদ্ভাবক শিকদার ফয়সাল আহমেদ বলেন, আমাদের ডিভাইসটি খুবই স্বল্পমূল্যের। মাত্র ৫০০ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা যাবে। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করলে খরচ আরো কমে যাবে। আরেক উদ্ভাবক মইনুল ইসলাম সাঈদ বলেন, আমরা এ ডিভাইসটি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করতে আগ্রহী। সেজন্য ডিভাইসটির ফারদার ডেভেলপমেন্টের কাজও চলছে। খুব শিগগিরই ডিভাইসটির সাথে হিউমিডিটি সেন্সর যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে যন্ত্রটি পরিবেশের আর্দ্রতা নিয়েও কাজ করবে। কারণ ক্ষুদ্র শিল্প অথবা খামার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তাপমাত্রার সাথে সাথে আর্দ্রতাও গুরুত্বর্পূণ। যন্ত্রটি উদ্ভাবনে সার্বিক সহযোগিতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক মনিবুর রহমান এবং কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক চিন্ময় বেপারী।