তুরস্কের বিরুদ্ধে সীমান্ত দিয়ে সৈন্য পাঠানোর অভিযোগ সিরিয়ার

সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী তুরস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, সীমান্ত পথ ব্যবহার করে আঙ্কারা তাদের দেশে বিদেশি যোদ্ধাদের পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, বাশার সরকারের বিরুদ্ধে লাটাকিয়া প্রদেশে এই যোদ্ধাদের এনে সরকার পতনের জন্য সরাসরি কাজ করছেন তারা। এদিকে সিরীয় বাহিনী সোমবার উত্তর লাটাকিয়া পুনরায় তাদের দখলে নিয়েছে। তথ্যমন্ত্রী ওমরান আল-জুবাই রবিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে বলেন, প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের সীমান্ত পথ ব্যবহার করে বাশার সরকারকে পরাস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, লাটাকিয়ার এই পথটি তারা ব্যবহার করছেন। তিনি হুঁশিয়ারি আরোপ করে বলেন, কোন ক্রমেই এ ধরনের পরিস্থিতি বরদাশত করা হবে না। এর আগে সিরিয়া সরকার জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ করেছিল যে আঙ্কারা তাদের বিদেশি যোদ্ধাদের সিরিয়ার মাটি ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে তাদেরকে ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য, একসময় সিরিয়ার সাথে তাদের ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের উস্কে দেয়ার কারণে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। বিগত সময়ে তাদের সম্পর্কে আরো অধঃপতন ঘটে। বিশেষ করে গত সপ্তাহে তুরস্ক সিরিয়ার একটি জঙ্গি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করলে দুইদেশের মধ্যে সম্পর্কের বৈরিতা আরো বেড়ে যায়। অবশ্য তুরস্কের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল যে ,সিরিয়া তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় তারা এটি করতে বাধ্য হয়েছে। তুরস্কের এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে দামেস্ক বলেছিল, সিরীয় বিমানটি তাদের আকাশসীমায়ই বিধ্বস্ত করা হয়েছে। এদিকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করা হয়েছে, বিদ্রোহী অধ্যুষিত লাটাকিয়ায় আবার সরকারি সৈন্যরা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। এতে আরো বলা হয়েছে সিরীয় আর্মি উত্তর লাটাকিয়ার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। সেদিন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বহু লোকের মৃতদেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ‘বিদেশি সন্ত্রাসী’।