হতাশাতেই বিদায়

ম্যাচের আগে আকরাম খান যখন তাসকিন আহমেদের মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দিলেন, তার সিনিয়র সতীর্থরা আন্তরিক হাসি নিয়ে এসে দাঁড়ালেন তার পাশে। একদিন আগেও জাতীয় দলের বাইরে একা একা অনুশীলন করতে থাকা ফাস্ট বোলার তাসকিনের এই স্বপ্নপূরণের দিনটা হতে পারতো বাংলাদেশেরও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার দিন। অন্তত সেভাবেই ব্যাট হাতে দলকে এগিয়েছিলেন সাকিব-মুশফিক। কিন্তু আবারও সেই হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হল বাংলাদেশকে। নিজেদের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষটাও করতে হলো তাদের আরেকটা পরাজয় দিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সুপার টেনের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ হারলো ৭ উইকেটে। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ এই ম্যাচ শুরুর আগে অন্তত একই জায়গায় দাঁড়িয়েছিল। দু’দলই সুপার টেনে সবগুলো ম্যাচ হেরে এই শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিল। শক্তির বিচারে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আশা না থাকলেও নিজেদের মাঠ, ফেরার প্রতিজ্ঞা; সব মিলিয়ে একটা আশা তৈরি হয়েছিল। সেই আশায় আরেকটু বাতাস দিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় উইকেটে টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ এবং যে কোনো জুটিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান করে এরাই বাংলাদেশকে পৌঁছে দেন ৫ উইকেটে ১৫৩ রানের লড়াকু স্কোরে। কিন্তু এই স্কোর অস্ট্রেলিয়া পার হয়ে গেল ৭ উইকেট ও ১৫ বল হাতে রেখেই। অস্ট্রেলিয়াকে এই জয়টা এনে দিলো তাদের ওপেনিং জুটিই। ১৫৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বিনা উইকেটে ৯৮ রান তুলে ফেলেন অ্যারন ফ্লিঞ্জ ও ডেভিড ওয়ার্নার। ওয়ার্নার ৪৮ রানে আউট হয়ে গেলেও ফ্লিঞ্জ আউট হওয়ার আগে ৭১ রানের ইনিংস খেলেন। দুজনকেই ফিরিয়েছেন আল আমিন হোসেন। আর চার নম্বরে নামা ম্যাক্সওয়েলকে আউট করে অভিষেকে একটা উইকেট অন্তত পেয়েছেন তরুণ পেসার তাসকিন। এর আগে বাংলাদেশকে লড়াকু পুঁজিটা এনে দেন সাকিব ও মুশফিক। ১২ রানে দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পর উইকেটে জুটি বাঁধেন তারা। ফিফটি থেকে ৩ রান দূরে থাকতে মুশফিক আউট হয়ে যাওয়ায় এই জুটি ভাঙ্গে, ততোক্ষণে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ১২৪ রানে। ৩৬ বলে ৫টি চার ও ১টি ছয়ে সাজানো ৪৭ রান করে মুশফিক ফিরেন ওয়াটসনের বলে ম্যাক্সওয়েলের হাতে ক্যাচ দিয়ে। এ অবস্থা থেকে বাংলাদেশের স্কোর আরো বড় হল না কেন, এই আফসোস থাকতে পারে; তবে সাকিব-মুশফিক নিজেদের কাজটা করে এসেছেন বলে মানতেই হবে। এদিকে মিশেল স্টার্ককে চার মেরে শুরু করেছিলেন সাকিব। এরপর বোলিংগার ও ওয়াটসনকে দুটো ছক্কা; পরে ছক্কা মেরেছেন একটি ম্যাক্সওয়েলকেও। সবমিলিয়ে ৫২ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো ৬৬ রানের ইনিংস খেলে তবে ফিরেছেন। সাকিব ও মুশফিক দলকে যেখানে রেখে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে অনায়াসে বাংলাদেশের স্কোর ১৭০ বা ১৮০ হতে পারতো। সেটা হল না নাসির, রিয়াদদের খুবই অসময়োপযোগী ব্যাটিংয়ে।