বাকৃবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে কক্ষে ডেকে পিটিয়ে হত্যা
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৫
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আশরাফুল হক হলে সায়াদ ইবনে মমতাজ নামে ছাত্রলীগের এক নেতাকে কক্ষে ডেকে এনে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ক্লাসে পরীক্ষা দেয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সায়াদের সহপাঠী ও ছাত্রলীগ নেতা সুজয় কুমার কুন্ডু এবং তার কর্মীরা তাকে হত্যা করেছে বলে হলের ছাত্ররা জানিয়েছে। গত সোমবার রাতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সায়াদ মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের স্নাতক শেষ বর্ষের (লেভেল-৪, সেমিস্টার-১) ছাত্র। আশরাফুল হক হলের সাংগঠনিক সম্পাদক সায়াদ শ্রেণি প্রতিনিধিও ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ১১টার দিকে সায়াদকে হলের ২০৫ নম্বর কক্ষে ডেকে আনে হলের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সায়াদের সহপাঠী সুজয় কুমার কুন্ডু ও ছাত্রলীগ কর্মী রোকনুজ্জামান রোকন। ক্লাসে পরীক্ষা দেয়া নিয়ে সায়াদের সঙ্গে সুজয় ও রোকনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সায়াদকে লাঠি, স্ট্যাম্প ও রড দিয়ে শরীর ও মাথায় ক্রমাগত পেটাতে থাকে তারা। হাত, পা ও মাথায় মারাত্মক আঘাত পায় সায়াদ। সঙ্গে সঙ্গে রক্ত বমি করতে থাকে। মারধরের সময় হলের আরো বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী সুজয়ের সঙ্গে যোগ দেয় বলে জানা গেছে।
পরে হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারের চিকিত্সকের মাধ্যমে সায়াদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়। তবে চিকিত্সক তার অবস্থা দেখে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। রাতেই হলের ছাত্ররা সায়াদকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করান। কিন্তু কে বা কারা তাকে পার্শ্ববর্তী বেসরকারি হাসপাতাল ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যায়। সায়াদকে সেই হাসপাতালের বাইরে ফেলে রাখে কর্তৃপক্ষ এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মাস্টার্সের ছাত্র মিজানুর রহমান জানান, রাতে কর্তব্যরত চিকিত্সক অবস্থার উন্নতির কথা জানালে আমি হলে ফিরে আসি।
জানা যায়, হাসপাতালের নিচে সায়াদকে স্যালাইন এবং অক্সিজেন দিয়ে ফেলে রাখে ট্রমা সেন্টার কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রমা সেন্টারের পরিচালকসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে দুপুরের মধ্যে ময়মনসিংহে চলে আসেন সায়াদের বাবাসহ অন্য আত্মীয়-স্বজন। তার বাবা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার সন্তানের লাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে না। অনেক দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের হত্যাকাণ্ডের কোন বিচার হয় না। তাই কোন মামলা করব না।
সায়াদের গ্রামের বাড়ি রাজশাহী শহরের ভাটাপাড়া এলাকায়। পিতা-মাতার তিন সন্তানের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট।
সায়াদের মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের সকল বর্ষের শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে অনুষদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
ঘটনা তদন্তে অধ্যাপক ড. মোহসীন আলীকে প্রধান করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতয়ালী থানার ওসি গোলাম সারওয়ার জানান, ময়না তদন্তের জন্য লাশটি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে ছাত্রলীগের কাউকে এখনো আটক করা হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রহমান খান বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সায়াদকে মারধর করেছে বলে শুনেছি। ক্যাম্পাসের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।