‘পরিশ্রম করে আয় করি সহায়ক পরিবেশ চাই’

রাজনীতির বাইরে থেকে নিজের প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী হওয়ার নেশায় মেতেছেন এদেশের তরুণরা। স্বল্প শিক্ষিত এসব তরুণ স্বল্প পুঁজি দিয়ে ব্যবসা শুরু করে সংসার চালানোর মত অবস্থায় দাঁড়িয়েছেন। তারুণ্যের উদ্যম নিয়ে স্বকর্ম-সংস্থানে নিয়োজিত এসব তরুণ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু সমাজের অবহেলার চোখও এদের দিকে। নীতিনির্ধারকরাও ছোটখাটো এমন উদ্যোগ থেকে দৃষ্টি এড়িয়ে রাখেন। স্বউদ্যোগী ফারুক বললেন, সরকারের কাছে সাহায্য চাই না। আমাদের জন্য দরকার নির্বিঘ্নে কিছু করে খাওয়ার সহায়ক পরিবেশ। রাজনৈতিক হানাহানি না থাকলে আমরা ভাল থাকি। তার মতে, ছোট ব্যবসায়ীরা নানা রকম বিপত্তির মধ্যে পড়ে। চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়। এগুলো বন্ধ হলে ব্যবসায় লাভ বেশি হতো এবং পুঁজিও বাড়তো। ফারুকের ব্যবসা বলতে চা বিক্রি করা। পায়ে হেঁটে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চা বেচেন। সঙ্গে বিস্কুটও। দাউদকান্দির ফারুক মাসে যা আয় করেন তাতেই গ্রামে তার সংসার ব্যয় চলে। স্বউদ্যোগীদের জন্য কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই—এমন কথাই বললেন কাওরান বাজারে ঝালাইয়ের দোকানদার নুর আলম। লেখাপড়া কম, গরীব ঘরে জন্ম তাই ঢাকায় চলে আসা। বাপের সঙ্গে দোকানে খাটাখাটুনির কাজ করেন। আট বছর আগে ঢাকায় এসে কাজ শুরু করেন ভোলার মনপুরা থানার নূর আলম। বললেন, ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়েছি। নূর আলমের তিন ভাই-বোন। বিয়ে করেছেন। এই দোকানের আয় দিয়েই চলে তাদের সংসার। বাবা-মা, ভাই-বোনদের নিয়ে ভালই আছেন। কর্মচারিও আছে। শরীরের ঘাম ঝরিয়ে আয় করেন তারা। পুরান ঢাকার চকবাজার থেকে স্টিলের পাত কিনে আনেন। তারপর নানান রকম পণ্য তৈরি করেন। ইস্পাত কেটে কেটে তৈরি করা হয় বাংলা বর্ণমালার নানা বর্ণও। যেগুলো বিভিন্ন স্থানে শোভাবর্ধনে কিংবা সাইনবোর্ডেও কাজে লাগে। সারা বছরই তাদের কাজ থাকে। তবে বর্ষায় চাহিদা থাকে কম। তাতেও সমস্যা হয় না। এই কাজ করেই তো চলে যাচ্ছে বছরের পর বছর। শুধু নূর আলম কিংবা ফারুকই নন, সহস্র তরুণ এভাবেই জীবন সংগ্রামে লিপ্ত।