প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ :এডিবি

এশিয়ার অন্যান্য দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার সুসংবাদ দিলেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থির নিম্নগতির ইঙ্গিত দিলো উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই দায়ী করেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের সর্বশেষ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে যাবে। গতকাল ঢাকাস্থ এডিবি কার্যালয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে এক বিশ্লেষণ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘প্রবৃদ্ধির জন্য রাজস্ব নীতি’ এই শিরোনামে ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় প্রবৃদ্ধি ২০১৩ সালের ৪ দশমিক ৮ থেকে চলতি ২০১৪ সালে ৫ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হবে। দক্ষিণ-পূর্ব এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি এ দুই বছর কমে না গেলেও যথাক্রমে ৫ ও সাড়ে ৬ শতাংশে স্থির থাকবে। ভারতের প্রবৃদ্ধি এসময়ে ৪ দশমিক ৯ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশে উন্নীত হবে। শ্রীলংকার ৭ দশমিক ৩ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশে উন্নীত হবে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২০১৩ সালের ৬ শতাংশ থেকে চলতি বছর ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে যাবে। এর কারণ হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে মূল কারণ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। এডিবি ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন মূল প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। সংস্থাটির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ওলেগ টনকোনোজেনকভ এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক বিনিয়োগ বেড়েছে সামান্য আকারে, যা উন্নয়নে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না। এক বছর আগেও বেসরকারি বিনিয়োগ বেড়েছিল ২০ শতাংশ যা এবছর ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বেসরকারি বিনিয়োগ পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ হলো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। এর সাথে চলমান সমস্যগুলো যেমন গ্যাস-বিদ্যুত্ সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে কিন্তু সংশ্লিষ্টদের বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাব রয়েছে। অন্যদিকে শস্য খাতে উত্পাদন হ্রাস পাওয়ায় কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। সেইসাথে কমেছে সেবাখাতের প্রবৃদ্ধিও। গত বছর গড় মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থাকলেও এ বছর তা সাড়ে ৭ শতাংশে পৌঁছে গেছে। সর্বোপরি সাধারণ মানুষের ভোগব্যয় কমে গেছে। অর্থনৈতিক নানা সংকট থাকলেও ওলেগ টনকোনোজেনকভ তার বক্তব্যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রসংশা করে বলেন, বাজেটের ঘাটতির পরিমাণ তার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রয়েছে, বৈদেশিক লেনদেনে উদ্বৃত্ত ৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে এবং এ অর্থবছরের শুরুতে রিজার্ভের আকার ১৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছিল যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রেমিটেন্স প্রবাহ কমে গেলেও জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরবর্তী বছরে রেমিটেন্স বাড়বে। তিনি বলেন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সহস্রাব্দ লক্ষ্য অর্জনে (এমডিজি) বাংলাদেশের অর্জন উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এখন প্রয়োজন বড় আকারের বিনিয়োগ। অর্থবছরের শুরুতে ছয়মাস রাজনৈতিক সংকটে অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। চলমান স্থিরতা থাকলে ২০১৫ সাল নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হয়ে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হবে বলে এডিবি উল্লেখ করেছে। ওলেগ টনকোনোজেনকভ আরো উল্লেখ করেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বাংলাদেশকে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ এবং দক্ষতা বাড়াতে হবে। সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে কর নীতির বড় ধরনের সংস্কার আনতে হবে, বাড়াতে হবে কর প্রসাশনের দক্ষতা। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হলে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও অবকাঠামো উনন্নয়নে অংশীদার করতে হবে। বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দিতে হবে।