ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছেন ন্যান্সি পাওয়েল
অঞ্জন রায় চৌধুরী, নয়াদিল্লি
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৯
সদ্য পদত্যাগ করা ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যান্সি পাওয়েল দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অথচ তিনি ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক অঙ্গনে ছিলেন আলোচিত। আর ভারতের কূটনীতিক দেবযানী খাবরাগাড়ের গ্রেপ্তারের পর এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সরকারের সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরে দেবযানীকে গ্রেপ্তারের পর ভারত সরকারের যে প্রতিক্রিয়া ন্যান্সি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে তুলে ধরেছিলেন তা যথার্থ ছিল না। ওই সূত্রের বিশ্বাস, এরপর মার্কিন সরকার তার স্থলে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পাওয়েল নিজ থেকে পদত্যাগ করেছেন না কি তাকে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল এটা এখনো পরিষ্কার নয়। পাওয়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, তার সিদ্ধান্তের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইসের মতপার্থক্য ছিল।
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে পাওয়েলকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরকে মিথ্যা বলে জানিয়েছে পার্টির সূত্রগুলো। বিজেপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, আমরা মনে করি পাওয়েল রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত করেননি এবং এইজন্য তাকে পদত্যাগও করতে হয়নি। এ সংক্রান্ত যে খবর বেরিয়েছে সেটি মিথ্যা। ওয়াশিংটন যাকেই রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেবে বিজেপি তার সঙ্গেই কাজ করবে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মেরি হার্ফ জানিয়েছেন, যিনিই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হবেন তার সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। মোদী নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন ভিসা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানিয়েছেন, দেবযানীর গ্রেপ্তারের আগেই ভারত- মার্কিন সম্পর্ক গতি হারিয়েছিল। মূলত মনমোহন সরকারের সঙ্গে ওবামা সরকারের নীতির প্রাধান্যের পরিবর্তনের ফলেই এটা ঘটেছিল। ২০১১ সালে পাওয়েলকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিতে পারাটা ছিল একটা সাফল্য। পাওয়েল বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়ায় হোয়াইট হাউসে তার তেমন কোনো প্রভাব ছিল না যার মাধ্যমে তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে পারেন। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেবযানীর ঘটনার পর তিনি একজন ভারতীয় কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করার জন্যও সময় নিতে পারেননি। এছাড়া গত দুই বছর ধরে দুই দেশের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগে মন্দা অবস্থা বিরাজ করছিল।
দেবযানীকে গ্রেপ্তারে ভারত কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয় যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ভারত সফর স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভারত সরকার প্রত্যাহার করায় পাওয়েলকেও তার নেপাল সফর বাতিল করতে হয়েছিল। আর এসবের জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা পাওয়েলকেই দায়ী করেন। কারণ দূতাবাসের কূটনীতিক ওয়েন মেই সংগীতা রিচার্ডসের পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন। সংগীতার অভিযোগের ভিত্তিতেই দেবযানীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, পাওয়েলের চেয়ে বরং মার্কিন দূতাবাস এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টই ভালো সামাল দিয়েছিল। এদিকে বর্তমানে ভারতীয় বংশোদভুত রাজীব শাহকে পাওয়েলের উত্তরাধিকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে ওয়াশিংটনে মতপার্থক্য রয়েছে। ৪১ বছর বয়সী রাজীব শাহের নামই তালিকার উপরের দিকে আছে। তিনি ইউএসএইড’র প্রশাসক হিসেবে কাজ করছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, বয়সের কারণে তিনি নিয়োগ নাও পেতে পারেন।