সমাবেশে বোমা বাড়িঘর মাদ্রাসায় ভাংচুর আগুন

গত ২৪ ঘন্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ মাঠে জনসমাবেশে ৪টি হাত বোমার বিস্ফোরণে চারজন আহত হন। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি মাদ্রাসায় ঢুকে বোর্ডিংয়ের ১২ টি কক্ষ ও পাশের এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা। এসময় ব্যাপক লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর, দোকানপাটে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা নির্বাচন শেষে গত সোমবার রাত বারটার দিকে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আসা ফলাফল প্রকাশ করার সময় সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ মাঠে সহস্রাধিক লোকের সমাগম হয়। এ সময় কে বা কারা মাঠে ৪টি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। মুহূর্তের মধ্যে মাঠটি জনশূন্য হয়ে যায়। বোমার বিস্ফোরণে ৪ জন আহত হন। এরা হলেন মো. মনির হোসেন, মোক্তার হোসেন, ফজল ভুঁইয়া ও স্বপন মিয়া। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী হামলা, ভাংচুর ও সহিংস ঘটনায় নারীসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। রায়পুর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাস্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার বলেন, আমাদের প্রায় ১২ নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। আহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক প্রকাশ চন্দ্র রায়, মো. সোহেল, ওহাদ খান, আলী গোমোস্তা, আকবর হোসেন, কালু জমদার ও মান্নানকে রায়পুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার সন্ধ্যায় মুখোশপরা একদল দুর্বৃত্ত স্থানীয় হায়দেরগঞ্জ তাহেরীয়া ফাজিল মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ঢুকে বোর্ডিংয়ের ১২টি কক্ষ কুপিয়ে ভাংচুর করে। হামলাকারীরা আলেম পরীক্ষার্থীদের রেজিঃ কার্ড, প্রবেশপত্র, বই ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ মজুমদার। পরে সন্ত্রাসীরা মাদ্রাসার পাশে ব্যবসায়ী নাজির আহমদের বাড়ির ৫টি ঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিল আলম বলেন, সহিংসতা রোধে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। মাদ্রাসায় ভাংচুরের ঘটনা তদন্ত করা হবে। গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, দুই আওয়ামী লীগ কর্মীর বাড়িতে হামলার প্রতিশোধ হিসাবে সোমবার রাতে ও গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শিমলা, জগন্নাথবাড়ি, চতিলা, বাইশকাইল ও গৈজারপাড়া গ্রামের বিএনপি কর্মীদের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে বাইশকাইল গ্রামের ডাক্তার জয়নাল আবেদীন ও তালেব আলীর দুটি ঘর ভস্মীভূত হয়। মধুপুর থেকে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনাস্থলে ‘রিজার্ভ ফোর্স’ মোতায়েন করা হয়েছে। টেকনাফে গুলিবিদ্ধ ৩ টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ৩ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার হ্নীলা রঙ্গিখালী কোনারপাড়া এলাকায় ভোট দেয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে গতকাল সকালে স্থানীয় ফখরুদ্দিনকে তার বাড়ির সামনে গুলি করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় তার মা মোস্তফা বেগম ও প্রতিবেশী আবুল বশরের ছেলে আবুল বারেক গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের আশংকাজনক অবস্থায় কক্সবাজার মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ভোট দেয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে সকালে স্থানীয় জামায়াত সমর্থক কাজী মুহাম্মদ নুরুল হক ও তার ভাই আবু হ্নীলা বাস স্টেশনের আজাদ ফার্মেসীতে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সন্ধ্যায় টেকনাফ মহেষখালী পাড়া এলাকায় মো. আব্দুল্ল¬াহ নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়েছে। এ সব ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া।