মিউজিক
লিন্ডসের জাদুর বেহালা
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৫৩
বেহালা শুনেতে ভালো লাগে এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু যাদের পছন্দ এই বেহালা, তারা অনেকটা মন্ত্রমুগ্ধের মতো স্তব্ধ হয়ে যান বেহালার সুরে। আর ঘোর লাগা সুর খুব কম মানুষই তৈরি করতে পারেন। সেই সব সুরের জাদুকরদের মধ্যে একজন হলেন লিন্ডসে। সম্প্রতি আবারও তিনি হাজির হলেন তার জাদুকরী বেহালা নিয়ে। তার কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
নিস্তব্ধ রাত, আজকে হয়তো মনটাও একটু খারাপ। দিনের সব ব্যস্ততা শেষে রাতটাই যেন অনেকটা আপন। একাকী বসে আছেন চুপচাপ। হঠাত্ রাতের এই স্তব্ধতা ভেঙে করে কোথাও বেজে উঠল বেহালার সুর। শুনতে শুনতে কখন যে হারিয়ে যাবেন চেনা এই জগত্ ছেড়ে অন্য কোথাও, টেরই পাবেন না। বেহালা নিয়ে তরুণ প্রজন্ম কেন জানি একটু বেশিই আগ্রহ বোধ করে। তরুণরা বেহালার প্রেমে পড়ে গড়ে তুলেছেন অন্য এক জগত্। অনেকের মতো লিন্ডসেও সেই সুরের জগতের বাসিন্দা। তিনি বেহালার সুরের জাদু দিয়ে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে চলেছেন হাজারো শ্রোতাদের। অ্যারিজোনার ছোট্ট শহর গিলবার্ট, শহরের অলিগলিতে দৌড়ে বেড়াতো ছোট্ট একটা মেয়ে, লিন্ডসে স্টারলিং। তার বয়স যখন মাত্র ৫ বছর, তার বাবা তার জন্মদিনে তাকে একটা বেহালা কিনে দিয়েছিলেন। সেই থেকে শুরু, বেহালা তার সঙ্গী হয়ে গেছে। এরপর তার ১২ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি তার বাবার কাছে বেহালা শেখেন। এর প্রায় চার বছর পর একটা ব্যান্ডের সাথে কাজ শেখার সুযোগ পান তিনি। তিনি ও তার চার বন্ধু মিলে ‘স্টর্ম অন মেলভিন’ নামের একটি ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। সেই ব্যান্ডের জন্য তিনি রক মিউজিক লেখা শুরু করেন। অংশ নেন অ্যারিজোনার জুনিয়র মিউজিক্যাল ফেস্টিভ্যালে। সুরের জাদু দিয়ে এখানেও ছিনিয়ে আনেন জয়। এই প্রতিযোগিতার সেরা পুরস্কারটি জিতে নিয়েছিল তাদের ব্যান্ড। পরবর্তীতে তিনি অবশ্য নিজের এই ব্যান্ড ছাড়াও ‘চার্লি জেনকিনস’ নামের একটি ব্যান্ডে বাজাতেন। ক্যারিয়ারের জন্য তিনি ও তার বন্ধুরা পাড়ি জমান আমেরিকাতে। সেখানেও তারা সুরের জাদুতে মুগ্ধ করেন সবাইকে। সুযোগ পেয়ে যান সেখানকার এক মিউজিক কোম্পানিতে। সুরের জাদু দিয়ে সবাইকে খুব সহজেই মাতিয়ে রাখতে পারেন তিনি। ২০০৭ সালে বের হয় তার প্রথম অ্যালবাম ‘লিন্ডসেস স্টম্প’। ইউটিউবে প্রথম মুক্তি দেওয়া হয়েছিল তার অ্যালবামটি। এই অ্যালবাম দিয়েই প্রথম তিনি আমেরিকার মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে আত্মপ্রকাশ করেন। অ্যালবামটির জন্য কিছু মিউজিক ভিডিওর কাজও করেন তিনি। ২০১০সাল, জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে গেছেন লিন্ডসে ও তার দল। ‘আমেরিকা’স গট ট্যালেন্ট’ নামের একটি রিয়েলিটি শোয়ে পারফর্ম করার সুযোগ পান তিনি। সেখানে কোয়ার্টার ফাইনাল রাউন্ডে উঠে আসেন খুব সহজেই। সেখানে তিনি হিপ হপ বেহালা বাদক হিসেবে খ্যাতি পান। এরপর সেই বছরই বেশ কিছু সিঙ্গেল গানও বের করেন তিনি। তার মিউজিক্যাল স্টাইলের মধ্যে ক্লাসিকাল, পপ এবং হিপ হপও স্থান পায়। এছাড়াও তিনি বেশ কিছু বড় শিল্পীদের গানের ট্র্যাক নিজের মতো করে গাইতেন। ‘ইলেক্ট্রিফাইয়িং’ নামের একটি অ্যালবামে গান গাওয়ার জন্য বেশ ভালো সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। তবে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে পিয়ার মর্গান নামের এক জাজ তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি বেহালা হাতে তোমার সুর দিয়ে যে কাউকে নিয়ে যেতে পারো অন্য এক ভুবনে।’ একবার এক সাক্ষাত্কারে লিন্ডসে বলেন, ‘অনেকে আমাকে আশাহত করেছিল। নির্দেশনা দিয়েছিল পথ চলার, তাদের মতো করে কাজ করার। কিন্তু আমি তাদের কথায় হতাশ হলেও থেমে যাইনি কখনই। আজ আমার সফলতার পেছনে মূল কারণ কাজের প্রতি ভালোবাসা। নিজের ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাস ছিল আমার।’ এরপর দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল আরও কয়েক বছর। ২০১২ সাল, এর মধ্যে তার আরও কিছু অ্যালবাম বের হয়। সেগুলো বেশ ভালোই জনপ্রিয়তা পায়। কয়েকবার টপচার্টেও উঠে আসে তার অ্যালবামগুলো।