শ্রীলঙ্কায় মাছ চাষ করবে বাংলাদেশ!
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০৭
শ্রীলংকার উত্তর প্রদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের মাছ চাষের বিশাল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। শ্রীলংকান সরকার তাদের দেশের উত্তর প্রদেশের মুলায়েটিভু নামক স্থানে বাংলাদেশকে মাছ চাষে বিনামূল্যে জমি লিজ দেয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। শ্রীলংকার নাগরিকদের মধ্যে অধিকাংশই সমুদ্রের মাছ খেতে পছন্দ করে। সে দেশে মিঠা পানির মাছ খুবই কম লোকই খায়। এ কারণে শ্রীলংকার ওই বিশাল এলাকার মিঠা পানির জলাধার, পুকুর, বিরাট খাল, নালা অব্যবহূত হয়ে পড়ে আছে।
তাছাড়া দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে শ্রীলংকার উত্তর প্রদেশে গৃহযুদ্ধ চলে আসছিল। ২০০৯ সালের ১৯ মে তামিল টাইগার (এলটিটিই) এর পতনের পর গৃহযুদ্ধের অবসান হয়। ইতিমধ্যে ওই অঞ্চল থেকে লক্ষ লক্ষ লোক অন্যত্র চলে গেলে এক শূন্যাবস্থা বিরাজ করতে থাকে। এলটিটিই’র পতনের পর ওই সকল এলাকায় শরণার্থীরা আবার ফিরতে শুরু করে। বিশ্বের বড় বড় দেশসহ দাতাসংস্থাসমূহ তাদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
জানা যায়, শ্রীলংকার উত্তর প্রদেশের কিছু কিছু ক্যানেল জলাধার লম্বায় ১ থেকে ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত। কিছু কিছু জলাধার প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এগুলো আবার ২ থেকে ৫ একর, ৫ থেকে ১০ একর, ১০ থেকে ২০ একর ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। শ্রীলংকার উত্তর প্রদেশের এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ইতিমধ্যে থাইল্যান্ড আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জানা যায়, থাই ব্যবসায়ীদের বেশ কয়েকজন শ্রীলংকার জমি লিজ গ্রহণ করেছে। এদিকে গত বছরের জুন মাসে শ্রীলংকাস্থ বাংলাদেশ থাই কমিশন কাউন্সিলর বুরহান উদ্দিন উত্তর প্রদেশ সফর করেন। তিনি ওই প্রদেশের গভর্নরের সাথে সাক্ষাত্ করেন। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর প্রদেশের লোকজনের পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে গভর্নরের সাথে কাউন্সিলর আলোচনা করেন। কাউন্সিলর বাংলাদেশ সরকারের সাথে শ্রীলংকান সরকারের ২০১১ সালের ফিশারিজ সেক্টরের সহযোগিতা সমপ্রসারণের ব্যাপারে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ওই চুক্তির আওতায় উত্তর প্রদেশে বাংলাদেশ সরকার শ্রীলংকান নাগরিকদের সহায়তা প্রদানের কথা জানান। উত্তর প্রদেশে মাছের প্রকল্পে শ্রীলংকান নাগরিকদের অংশীদারিত্ব প্রদানের মাধ্যমে আর্থিক ও কর্মসংস্থানের পথ সুগম হবে বলে কাউন্সিলর তাকে জানান। শ্রীলংকাস্থ হাই কমিশন থেকে গত বছরের ২৮ নভেম্বর কাউন্সিলর বুরহান উদ্দিন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ সচিবকে বিস্তারিত জানিয়ে পত্র দেন।
জানা যায়, উক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। গত ২৪ মার্চ মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে উত্তর শ্রীলংকায় মাছ চাষের সম্ভাবনার ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি টেকনিক্যাল টিম গঠনের কথা বলা হয়। শ্রীলংকায় ওই সকল জলাধার, পুকুর ও ক্যানেলে বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে বলেও সভায় মতামত প্রদান করা হয়। জানা যায়, হাই কমিশন থেকে অবিলম্বে একটি টেকনিক্যাল টিম শ্রীলংকায় প্রেরণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছে।