খাগড়াছড়িতে অপহূত সেনা সদস্য উদ্ধার
রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০৯
র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে খাগড়াছড়ির রামগড়ের একটি বাগান থেকে সেনাবাহিনীর অপহূত সদস্য নান্টু আলীকে (৩০) গত সোমবার রাতে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে যুবলীগের রামগড় উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন, পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামিম মাহমুদ ও ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি শিপনকে গ্রেফতার করেছে। মোবাইল ফোনে দাওয়াত দিয়ে গত রবিবার নাটোর থেকে রামগড়ে এনে নান্টুকে অপহরণ করা হয়েছিল।
সেনা সদস্য নান্টু এ প্রতিনিধিকে জানান, তিনি সেনাবাহিনীর বগুড়া এনসিও একাডেমীতে কর্মরত। বাড়ি নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার কাদিম চিলান গ্রামে। তিন মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রামগড়ের ফারুক নামে এক ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। সম্প্রতি তিনি দুইমাসের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার পর ফারুক তাকে রামগড়ে বেড়াতে আসার আমন্ত্রণ জানায়। এর প্রেক্ষিতে গত রবিবার সকাল ৬টায় তিনি রামগড়ে পৌঁছেন। বাস থেকে নেমে মোবাইলে কল দেয়ার পর ফারুক ও ফরিদ নামে দুই যুবক এসে তাকে সিনেমা হল সংলগ্ন একটি বাসায় নিয়ে যায়। একটু পর রুবেল, মিলন ও অন্য এক যুবক ওই বাসায় আসে। পাঁচ জন একত্রিত হওয়ার পর তারা সবাই তাকে নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। একসময় তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করে। নইলে ফেন্সিডিল দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার ভয় দেখায়। ওই যুবকরা তার স্ত্রী ও ভাইদের কাছে ফোন করে দ্রুত মুক্তিপণের টাকা দিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলে। বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকে খুন করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে তাকে বেদম মারধরও করা হয়। রবিবার সারাদিন ওই বাসায় আটকে রাখার পর রাতে হাত, পা, চোখ, মুখ বেঁধে একটি সিএনজি অটোরিকসা করে তাকে উপজেলার যৌথখামার এলাকার বনবিথী বাগানে নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, র্যাব-৭ এর মেজর জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম রামগড় থানা পুলিশের সহায়তায় অপহূত সেনা সদস্য নান্টু আলীকে উদ্ধার করে। তাকে উদ্ধারের পরই রামগড় সদর এলাকা থেকে যুবলীগের ওই তিন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।