প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল স্রোতে আনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৫
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রতিবন্ধীদের প্রতি যেমন তাদের অভিভাবকদের দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রেরও রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীরা সমাজের মূল সে াতে মিশে যেন সুস্থভাবে বাঁচতে পারে সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। তাদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদানের জন্য ‘প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র’ উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। ভবিষ্যতে অটিস্টিক এবং প্রতিবন্ধীদের আজীবন পরিচর্যার ব্যবস্থা করবে সরকার।
গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০১৪’ উপলক্ষে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অনলাইনের মাধ্যমে মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে ‘প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তর’ হিসেবে উদ্বোধন ও ‘জাতীয় প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্সে’র ফলক উন্মোচন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক ব্যক্তিদের সেবা প্রদানের জন্য ইতিমধ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় ৭৩টি ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার বা ‘প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র’ চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্রের সঙ্গে একটি করে ‘অটিজম কর্নার’ও চালু করা হয়েছে। এ কার্যক্রম উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধিতা মানব বৈচিত্র্যের একটি অংশ। তাদের প্রতি অবজ্ঞা করার সময় শেষ হয়েছে। প্রতিটি মানুষেরই জন্মগতভাবে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। অটিস্টিকসহ সমাজের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এ মর্যাদা ভোগের সমান অধিকার রাখেন। তিনি আরো বলেন, অটিজম কোন ব্যাধি নয়, এটা জন্মগত একটি অসুবিধা। তাই তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। তিনি বলেন, অটিস্টিক শিশুদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে তারাও প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে। এসব শিশুদের বিশেষ চাহিদাগুলো মাথায় রেখে তাদের যত্ন নেয়া সম্ভব হলে তারা দেশের অমূল্য সম্পদ হবে।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অটিস্টিক শিশুদের জাতীয় জীবনের মূলধারায় যুক্ত করা সম্ভব হবে ইনশাল্লাহ্। তিনি বলেন, ঢাকার মিরপুরে একটি মাল্টিপারপাস প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এ কমপ্লেক্সে বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিবন্ধীর শিক্ষা, চিকিত্সাসহ ২৭৫ ব্যক্তির জন্য শেল্টার হোমের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া আমরা প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩ এর মাধ্যমে ট্রাস্ট পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে সরকার এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেন অটিস্টিক শিশুরা নিরাপদে থাকতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক ব্যক্তিদের সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে ‘প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তর’-এ রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে বলেন, সারা দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কোন সঠিক পরিসংখ্যান ছিল না। এজন্য গত অর্থ বছর থেকে সরকার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিবন্ধিতা সনাক্তকরণ জরিপ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ বছরের মধ্যে অটিস্টিকসহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান করা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী শিশুদের আঁকা ছবি ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং শিশুদের বুকে জড়িয়ে আদর করেন। পরে তিনি প্রতিবন্ধী শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাসিমা বেগম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
‘জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা ঘোষণা শিগগির’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিগগিরই জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। চলচ্চিত্র শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানোর লক্ষ্যে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস-২০১৪ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এ কথা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, অসচ্ছল চলচ্চিত্র শিল্প ও কলাকুশলীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি কল্যাণ তহবিল গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চলচ্চিত্রে মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। চলচ্চিত্র শিল্পের মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হোক- এটাই আমার প্রত্যাশা।