৫ জানুয়ারির নির্বাচন অস্বাভাবিক হলেও বৈধ

সফররত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী এলান ডানকান বলেছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটি ছিল ‘অস্বাভাবিক’। কারণ এক পক্ষ এতে অংশ নেয়নি। তাই অস্বাভাবিক হলেও নির্বাচনটি ছিল বৈধ। ব্রিটিশ সরকার এদেশে যথাযথ গণতন্ত্র দেখতে চায়। যেখানে সহিংসতা থাকবে না। জনগণের চাহিদাগুলো প্রাধান্য পাবে। একজন অতিথি হিসেবে এদেশের রাজনৈতিক পদ্ধতি ও নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। এই সরকারের সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবো। তিনদিনের সফর শেষে গতকাল বুধবার বিকালে বারিধারায় ব্রিটিশ ক্লাবে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন। ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট গিবসন ও ডিএফআইডি বাংলাদেশের প্রধান সারাহ কুক এসময়ে উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন। অস্থিতিশীলতা উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকারক। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের চাহিদাকে প্রাধান্য দিতে হবে। সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার কথা তাকে বলেছি। তার সঙ্গে আলোচনায় মনে হয়েছে যে তিনি উপযুক্ত ভূমিকাই পালন করবেন। প্রকৃত গণতন্ত্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, সক্রিয় বিরোধী দল ও জন প্রত্যাশা পূরণে উদ্যোগী সরকার থাকতে হয়। নিয়মিত নির্বাচন হতে হয়। সহিংসতা বর্জনীয়। এলান ডানকান গতবছর সহিংসতায় বাংলাদেশে ৫০০ লোকের প্রাণহানি, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সাম্প্রতিক উপজেলা নির্বাচনে অনিয়ম ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গার্মেন্টস শিল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প খুবই মানসম্পন্ন ও সম্ভাবনাময়। শ্রমিকদের নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার ও বিবিধ প্রয়োগ নিশ্চিত না করলে চীন, ভারত, নেপাল, মিয়ানমারে চলে যাবে বাংলাদেশের ক্রেতারা। এই শিল্পের মান রক্ষায় আমরা সব ধরনের সহায়তা দেব। এখন অতিরিক্ত এক মিলিয়ন পাউন্ড দেয়া হবে। গার্মেন্টস কারখানার অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের মান উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় হবে। বিদেশি ক্রেতা ও দাতাদেরও অনেক করণীয় আছে। ব্রিটিশ নামকরা ব্রান্ডগুলো ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। গতকাল সকালে সাভারে রানা প্লাজা ভবন ও পক্ষাঘাত পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) চিকিত্সারতদের পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে এলান ডানকান বলেন, এক বছর ধরে আহত শ্রমিকরা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাচ্ছে। এটা আশার কথা। রানা প্লাজাই বুঝিয়ে দেয় বাংলাদেশের শ্রমিকদের কাজের মান কেমন। এই মান উন্নত করতে হবে। গত এক বছরে সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলো প্রশংসনীয়। তবে আরো কিছু করার আছে। তা না হলে এ শিল্প আর এগুবে না। দরিদ্র বিমোচন আর নারীর ক্ষমতায়নে গার্মেন্টস শিল্পের অবদান আছে। চল্লিশ লাখ লোক এ শিল্পে কাজ করছে। যাদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মহিলা। তিনদিনের সফর শেষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে লন্ডন ফিরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এছাড়া সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও তিনি সাক্ষাত্ করেন।