কর্মমুখী খাতে স্বউদ্যোগী নারীর বিচরণ বাড়ছে
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৬
নারীরাও স্বকর্মসংস্থানের দিকে ঝুঁকছেন। স্বউদ্যোগে কিছু করার আগ্রহ তরুণীদের মধ্যে বাড়ছে। নারী শিক্ষার প্রসার ঘটার ফলে লেখাপড়া শেষে কিছু করার চেষ্টা করছেন অনেকেই। শহরে-গ্রামে এধরনের উদ্যোগী নারীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। যারা নিজ উদ্যোগে হস্তশিল্প, বুটিক, খাবারের দোকান কিংবা অন্যান্য ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছেন।
বাংলাদেশে দরিদ্র নারীদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে ব্যবসায় অনুপ্রাণিত করেছে বিভিন্ন এনজিও। ক্ষুদ্রঋণদানকারী এসব এনজিওর বাইরে অনেক উদ্যোগী নারী রয়েছেন যারা এনজিও ঋণের আওতায়ও পড়েন না। কিংবা এনজিওগুলো তাদের ‘ঋণ ব্যবসা’র উপযুক্ত গ্রাহক মনে করে না এইসব নারী উদ্যোগীদের। তবে নিজে চাকরি করে কিংবা ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে একেবারেই ছোট থেকে শুরু করে মোটামুটি স্বাচ্ছন্দ্য পেয়েছেন এমন নারীর সংখ্যাও কম নয়। তাদের এই সাফল্যের পেছনে অদম্য ইচ্ছাশক্তিই কাজ করেছে।
এমন নারী উদ্যোগীদের কারো কারো মতে, বিয়ের পর স্বামীর উপর নির্ভরতা কমাতেই কাজ শুরু করা। ঢাকায় একজনের আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। তাই পাশাপাশি কিছু আয়ের ব্যবস্থা করতে স্বল্প পুঁজির ব্যবসা ধরেন কেউ কেউ। আবার বিয়ের আগেও নারীদের ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়াতে দেখা যাচ্ছে। তাদের মতে, বিয়ের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক নেই। নারীর যে শক্তি আছে, মেধা ও প্রজ্ঞা আছে, তা দিয়ে সমাজের উন্নয়নে সে ভূমিকা রাখতে পারে।
ঢাকায় শিক্ষিত নারীরা স্কুল, কোচিং সেন্টার, বিউটি পার্লার থেকে শুরু করে রাস্তার পাশে খাবারের দোকান পর্যন্ত চালাচ্ছে। ফুটপাতে পিঠাপুলি বিক্রেতা নারীদের সহজেই চোখে পড়ে। ঘরে বসে জামা সেলাইয়ের কাজ করেন ঝর্ণা বেগম। কাপড় কিনে নিয়ে নারীদের জন্য ব্লাউজ, থ্রি পিস প্রভৃতি তৈরি করে ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে সরবরাহ করেন। মৌচাকে রিক্সা থেকে ড্রেস নামাতে নামাতে বললেন, জামা তৈরি করে দোকানে দিয়ে যাই। দোকানদাররা বিক্রি করে মাস শেষে টাকা দেয়।
আরেক স্বউদ্যোগী মজিনা বেগম। হাতিরপুলে চায়ের দোকান তার। তিন মেয়ে এক ছেলের, মা মজিনা দীর্ঘদিন ধরে বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। মাইনে যা পেতেন তা থেকে জমিয়ে দশ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করেন চায়ের দোকান। মজিনার স্বামী দিনমজুর। সবদিন কাজ থাকে না। মজিনার চায়ের দোকানের টাকায় চলে সংসার। দৈনিক ৩/৪শ’ টাকা লাভ হয়। বললেন, ‘আগের চাইতে ভাল আছি। পোলাপানদের দুইবেলা খাওয়াইতে পারি।’ ঝর্ণা কিংবা মজিনাদের এই শ্রম দারিদ্র্যকে জয় করাই শুধু নয়, দেশকে বদলে দেয়ার জন্য অর্থনৈতিক সংগ্রামের উদ্দীপকও।