চট্টগ্রামে বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ক্ষমতা হ্রাস

আমদানি-রপ্তানির সাথে সংশ্লিষ্ট চট্টগ্রামের সরকারি দপ্তরগুলোর ক্ষমতা ক্রমশঃ খর্ব করার ফলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন ও পারমিটের সকল ক্ষমতা ঢাকায় কেন্দ্রীয় দপ্তরে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় চট্টগ্রামের সরকারি দপ্তরটি ব্যবসায়ীদের কোন কাজে আসছে না। এর ফলে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের সামান্য কাজে ঢাকায় ছুটে যেতে হচ্ছে। বন্দর থাকায় আমদানি রপ্তানির সাথে সংশ্লি¬ষ্ট সকল প্রকার কাজ চট্টগ্রাম দপ্তরের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ক্ষমতা থাকলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হত। এছাড়া রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানীর প্রধান কর্মকর্তা ঢাকায় বসে অফিস করার কারণে যৌথ মূলধনে ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হলেও বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট সকল কাজ ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। এখানকার সরকারি দপ্তরগুলোর ক্ষমতা ক্রমশঃ খর্ব করার ফলে হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সংশ্লি¬ষ্টরা। চট্টগ্রামে ‘আমদানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর’ নামে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নামে মাত্র রয়েছে। পরিচালকের দপ্তর হলেও সকল ক্ষমতা ঢাকায় অবস্থিত প্রধান দপ্তরে গিয়ে নিষ্পত্তি করতে হয়। সরকারি দপ্তরটিতে ৫১ জনের সৃষ্ট পদ থাকলেও ১৫/১৬ জন জনবল কর্মরত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগে আমদানি রপ্তানি সংশ্লি¬ষ্ট সকল সরকারি অনুমোদন এই দপ্তর থেকে দেয়া হতো। নমুনা সামগ্রী, উপহার সামগ্রী, বিজ্ঞাপন সামগ্রী, মালামাল খালাসের জন্য পারমিটের প্রয়োজন হয়। কিন্তু গত দুই বছর যাবত্ আমদানি-রপ্তানির রেজিস্ট্রেশন, অনাপত্তি সনদ ও পারমিটের সকল কাজ ঢাকায় প্রধান দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিন বছরের বেশি সময়ের আইআরসি, ইআরসি নবায়ন করতে ঢাকায় ধরনা দিতে হয়। এসব ছোট-খাট কাজের জন্য চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের ঢাকার মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানি দপ্তর প্রধান কার্যালয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক মনোজ রায় ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিশ্বায়নের যুগে অবাধে বাণিজ্য করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কাজ সহজীকরণের ফলে অনেক সময় দেখা যায় এক পক্ষ লাভবান হলে আবার অপর পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যবসায়ীরা যদি চট্টগ্রাম চেম্বারের মাধ্যমে কোন প্রস্তাব দেয় তা বিবেচনা করা হবে।’ সূত্র জানায়, সরকার আমদানি নীতিকে অন্ট্রাপো ও পুনঃ রপ্তানির সুযোগ দিয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীরা এতে সম্পৃক্ত হতে চায়। কিন্তু এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন আমদানি পারমিট ও পুনঃ রপ্তানির ক্ষমতা ঢাকা দপ্তরে ন্যস্ত করা হয়েছে। শুল্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আটক করা মালামাল নিষ্পত্তির দায়িত্ব চট্টগ্রাম দপ্তরে ন্যস্ত করা হলে স্থানীয়ভাবে সহজে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হতো। চট্টগ্রামে প্রায় ৬০০ গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। কোন কারণে তৈরি পোশাক, রপ্তানির পর ত্রুটিপূর্ণ হলে ফেরত ও আমদানি করা কাপড় ত্রুটিযুক্ত হলে তা ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন হয়। এতে সরকারিভাবে যে অনুমোদনের প্রয়োজন তাও প্রধান দপ্তরে ন্যস্ত থাকায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাছিরউদ্দিন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় অনুমোদন ও নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রিতায় ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক ও ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতির স্বার্থে চট্টগ্রামে অবস্থিত সরকারি দপ্তরগুলোর ক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।’ এদিকে চট্টগ্রামে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানীর একটি বিভাগীয় কার্যালয় রয়েছে। এই অফিসে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানী, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী, ট্রেড অর্গানাইজেশন সোসাইটি ও অংশীদারী ফার্মের নিবন্ধন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন সকল কাজে সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু নিবন্ধন পেতে সরকারি এই দপ্তরের বিরুদ্ধে নানামুখী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই অফিসে উপ-নিবন্ধকের একটি শীর্ষ পদ রয়েছে। বর্তমানে এই পদে পরিমলেন্দু ভট্টাচার্য নামে এক কর্মকর্তা দায়িত্বে রয়েছে। তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান না করার কারণে সংশ্লি¬ষ্ট ব্যবসায়ী বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে কর্মরত সহকারী নিবন্ধক শফিকুর রহমান জানান, উপ-নিবন্ধক ঢাকায় থাকেন। সপ্তাহে বৃহস্পতিবার একদিন এসে কাজ-কর্ম দেখাশুনা করেন। প্রতিমাসে ৪০ থেকে ৫০টি যৌথ মূলধনী কোম্পানি নিবন্ধন হয়। গত এক বছরে প্রায় ৪১৩টি যৌথ মূলধনী কোম্পানী নিবন্ধন নিয়েছে। এই দপ্তরের মাধ্যমে সরকার ও প্রতিমাসে দেড় থেকে ২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। ফলে এই কার্যালয়ের একজন দায়িত্ববান কর্মকর্তাকে পদায়নের দাবি উঠেছে।