রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সামষ্টিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে। অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বাধাও বর্তমান সরকারের ‘রূপকল্প-২০২১’ অর্জনের পথে কম-বেশি কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া বহিঃবিশ্বের পরিস্থিতিরি কারণেও বাংলাদেশের অর্থনীতি বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে যে কোনো ধরনের বিরূপ পরিস্থিতিতে সরকার সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেবে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয়সমূহের নীতি-কৌশল গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রণালয়সমূহের কার্যক্রমের নিজস্ব মূল্যায়ন করা হবে। মন্ত্রণালয়সমূহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ অর্থনৈতিক নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকলে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন অদূর ভবিষ্যতেও বিভিন্ন অন্তরায়কে মোকাবিলা করে এগিয়ে যাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। গ্রামের কর্মস্থলে না থাকলে চাকরি করার প্রয়োজন নেই চট্টগ্রাম-১৪ আসনের নজরুল ইসলাম চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিত্সক ও শিক্ষকসহ সরকারি চাকরি নিয়ে যারা কর্মস্থলে থাকবেন না, তাদের চাকরি করার প্রয়োজন নেই। যারা কর্মস্থলে থাকবেন না, প্রয়োজনে তাদের বাদ দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে যেখানে-যেখানে কমিউনিটি ক্লিনিক আছে, সেখানেই ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছি। এমনকি এডহক ভিত্তিতেও ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছি। ডাক্তার নিয়োগের পর তাদের প্রবণতা হলো-রাজধানীতে থাকতে হবে। যে কোনোভাবে তাদেরকে ঢাকায় আসতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সরকারি হওয়ার পরেই ডাক্তাররা ঢাকায় চলে আসতে চান, না আসতে পারলে যেন তাদের ইজ্জত থাকে না-এমন একটা ভাব দেখান। নিয়োগের পর যারা গ্রামে থাকতে চাইবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারি চাকরির জন্য বয়স বাড়ানোর দরকার নেই নাটোর-২ আসনের শফিকুল ইসলাম শিমুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি চাকরির জন্য বয়সের সীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে তেমন কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না। বর্তমানে যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে, তাতে ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যেই মাস্টার্স সম্পন্ন করা যায়। ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে সরকারি চাকরির জন্য বয়সের সীমা ৩২ বা ৩৫ করা হলে তখন আর ছাত্রের বয়স থাকে না, মধ্য বয়সে চলে যায়। এমনকি তখন চাকরি করার মনমানসিকতাও থাকে বলে আমার মনে হয় না। একই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাকরির জন্য দরকার মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করা। আগামী অর্থবছরেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল সেলিম উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে। এলক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত ১৫ সদস্যের বেতন ও চাকরি কমিশন বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে দুটি সভায় তাদের মতামত সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পিতামাতাসহ অনূর্ধ্ব ৬ জনের একটি পরিবারের জীবন যাত্রার ব্যয় নির্বাহের বিষয়সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় রেখে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করবে। এসময় তিনি বলেন, সরকারের আন্তরিকতা থাকলেও বিএনপি-জামায়াত শিবিরের ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে বেতন ও চাকরি কমিশনকে সময়মতো কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। তবে কমিশনের সুপারিশ আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। আরও ৫টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হবে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জাতীয় পার্টির (জেপি) রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, বর্তমানে দেশে ২৩টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। আরও ৫টি মেডিক্যাল কলেজ দ্রুত চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এগুলো হলো- টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, মানিকগঞ্জ ও পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন হবে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) এ কে এম মাইদুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ পৌর এলাকাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণের বিষয়টি বর্তমান সরকারের বিবেচনাধীন। জুনের মধ্যে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু নরসিংদী-২ আসনের কামরুল আশরাফ খানের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, ঢাকাবাসীর বহুল প্রত্যাশিত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলতি অর্থবছরের জুন মাসের মধ্যে শুরু হবে। ঢাকা আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজও যথাসময়ে শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া ২০১৫ সালের মধ্যে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নজরুল ইসলাম চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত লেবার ফোর্স সার্ভে ২০১০ সালের প্রতিবেদন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ বছরের উর্ধ্বে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ৫ কোটি ৬৭ লাখ। এরমধ্যে ২৬ লাখ বেকার, যা শ্রমশক্তির ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৫ বছর বয়স হতে ২৪ বছর পর্যন্ত শ্রমশক্তির পরিমাণ ২ কোটি ৯ লাখ।