ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন দাবিতে চেয়ারম্যানসহ ৭ শিক্ষক অবরুদ্ধ
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৯
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে বিভাগের চেয়ারম্যানসহ সাত শিক্ষককে গতকাল বুধবার অবরুদ্ধ করে রাখেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে তিনটা পর্যন্ত বিভাগীয় অফিস ও চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদের প্রতিকারের আশ্বাসে তারা অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন।
বিভাগের মাস্টার্সের ক শাখার শিক্ষার্থীদের চেয়ে খ শাখার শিক্ষার্থীদের অপেক্ষাকৃত কম নম্বর দেয়ার অভিযোগ এনে গত মঙ্গলবার বিক্ষোভ শুরু করেন ক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা। তখন বিভাগের নোটিশ বোর্ডে থাকা ফলাফলের শিটও তারা পুড়িয়ে দেন। শিক্ষার্থীরা জানান, বিভাগের মাস্টার্সের ‘ক’ শাখার ৯৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৪ জন জিপিএ-৩.৫০-এর বেশি নম্বর পেয়েছেন। অথচ একই পরীক্ষায় ‘খ’ শাখার ১৩৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৮ জন এ নম্বর পেয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকাল ১০টায় তারা ফল পুনর্মূল্যায়ন দাবিতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের চতুর্থ তলায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অফিস ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারীর কক্ষের সামনে অবস্থান করেন। চেয়ারম্যানের কক্ষে একাডেমিক কমিটির সভা চলাকালীন তারা অবরোধ শুরু করেন। ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শ্লোগান দেন। বিভাগের ছয় শিক্ষকসহ চেয়ারম্যান অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী বলেন, ফল ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর এটি সংশোধন বা পরিবর্তনের এখতিয়ার বিভাগের চেয়ারম্যান বা একাডেমিক কমিটির হাতে থাকে না। ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোটা ব্যাপারটি ভিসি এবং ডিনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি তাদের জানিয়েছিও। এখন ভিসি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের মধ্যেই দুপুর পৌনে তিনটার দিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যান। সেখানে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। একই সাথে তিনি অবরোধ তুলে নেয়ার অনুরোধ করেন। পরে বিকাল সাড়ে তিনটায় ছাত্ররা গতকালের মতো অবরোধ তুলে নেয়। দাবি না মেনে নেয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও ঘোষণা দেন।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, একাডেমিক কমিটির বৈঠকের সুপারিশ পেয়েছি। ঘটনাটিতে যে অসঙ্গতি শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। কারো প্রতি অন্যায় করা হবে না। এর শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে।