রায়বেরেলিতে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সোনিয়া গান্ধী

ভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি ও ক্ষমতাসীন ইউপিএ জোটের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলি থেকে থেকে প্রতিদ্বন্দিতার জন্য গতকাল বুধবার তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই আসন থেকে তিনি পর পর তিনবার লোকসভায় নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি রাহুল গান্ধীর গাড়িতে চড়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে যান। এদিকে সোনিয়া গান্ধী দিল্লির জামে মসজিদের শাহী ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। মনোনয়নপত্রে সোনিয়া গান্ধী সম্পদের যে হিসাব দিয়েছেন তাতে দেখা তার নিজের কোনো গাড়ি নেই। উত্তরাধিকার সূত্রে ইতালিতে তিনি যে সম্পদের মালিক হয়েছেন তার আর্থিক মূল্য ৬ কোটি ৭ লাখ রুপি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তার সঙ্গে রাহুল গান্ধী এবং তাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বন্ধু সতিশ শর্মা উপস্থিত ছিলেন। রায়বেরেলি পৌঁছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার জন্য জেলা কালেক্টরেট অফিসে যাওয়ার পথে তার গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন স্বীয় পুত্র ও কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। পরে সোনিয়া দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছলে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তাকে লাল গালিচা অভ্যর্ত্থনা জানায়। এ সময় তারা ‘সোনিয়া গান্ধী জিন্দাবাদ’ বলে মুহুর্মুহু শ্লোগান দিতে থাকে। কংগ্রেস সভানেত্রী হাত নেড়ে তাদের উচ্ছাসের জবাব দেন। রায় বেরেলি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সোনিয়ার শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীর আসন। সোনিয়া ১৯৯৯ সালে তার প্রথম নির্বাচন করেন আমেথি আসনে। পাঁচ বছর পর তিনি এই আসনটি পুত্র রাহুলের জন্য ছেড়ে রায়বেরেলি চলে যান। প্রতিবারই কন্যা প্রিয়াংকা তাঁর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। আশা করা হচ্ছে বিরোধী দল যুত্সই কোন প্রার্থী না পাওয়ায় এবার এই আসনে সোনিয়া এক প্রকার ওয়াকওভার পাবেন। সেনিয়ার বিরুদ্ধে বিজেপি’র প্রার্থী হচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আনিজীবী অজয় আগরওয়াল। হলফনামা অনুযায়ী ২০১২-১৩ সালে সোনিয়া গান্ধীর আয় ছিল ১৪ লাখ ২ হাজার রুপি। বর্তমানে তার নগদ অর্থসহ এক কোটি রুপি আছে। জমি, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থসহ সব মিলিয়ে তার ৯ কোটির সমপরিমাণ রুপি আছে। তিনি রাহুল গান্ধীকে ৯ লাখ রুপি ধার দিয়েছেন। সোনিয়ার সঙ্গে দিল্লি জামে মসজিদ ইমামের বৈঠক দিল্লির জামে মসজিদের শাহী ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বুখারী এবার লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন দিতে রাজি হয়েছেন। অতীতে তিনি প্রকাশ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দিয়েছেন। বুখারী বলেন, কংগ্রেস সভানেত্রীর সঙ্গে ৪০ মিনিট ধরে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে মুসলিমদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের নেতৃত্ব দান এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় কংগ্রেসই সবচেয়ে উপযুক্ত দল।