সৃষ্টিশীল ভাবনার দ্বীপ!

হয়তো বেশ অনেকদিন থেকে ভেবেও কোনো কূলকিনারা করতে পারছেন না বিষয়টার। কিংবা চমত্কার কোনো আইডিয়া হয়তো ধরা দিতে দিতেও দিচ্ছে না। এ অবস্থায় জনমানুষের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে মাথা ঠাণ্ডা করে পুরো বিষয়টা নিয়ে ভাবতে পারলে মন্দ হয় না। কিন্তু গোটা দুনিয়ায় এমন স্থানের সংখ্যা যেমন খুব বেশি নয় ঠিক তেমনি এসব স্থানে সময় কাটাতে গাঁটের পয়সাও খরচ করতে হয়। তবে মানুষের এ ধরনের কিছু চিন্তার ভার এখন হয়তো কিছুটা হলেও তুলে দেওয়া যাবে ফ্রেডরিক হ্যারেন নামের এক সুইডিশ জনহিতৈষীর ঘাড়ে। ব্যতিক্রমী এই মানুষটি আপনার হয়ে চিন্তাটুকু করে না দিলেও চিন্তা করার জন্য দারুণ একটা জায়গা ঠিকই দিতে পারবেন। আর সাগর বেষ্টিত মনোরম দ্বীপের মতো এই পরিবেশটাও আপনি পাবেন একেবারে বিনা খরচাতেই! মূলত হ্যারেন ও তার স্ত্রী সুইডেনের দু’টি এবং ফিলিপাইনের একটি দ্বীপের মালিক। আর নিজেদের এই দ্বীপগুলোর চমত্কার পরিবেশই তারা উত্সর্গ করতে চাইছেন সৃষ্টিশীল কাজ বা উদ্যোগ নিয়ে চিন্তা করা মানুষদের জন্য। এজন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হলো হ্যারেনের ‘দ্য আইডিয়াস আইল্যান্ড’ নামের ওয়েবসাইটটিতে ঢুঁ মারা এবং আপনি কেন কিংবা কোন চিন্তা করতে দ্বীপে থাকতে চান তা বিস্তারিতভাবে জানানো। আর জনমানুষ থেকে দূরে গিয়ে সময় কাটালে সেটি কীভাবে আপনার সৃষ্টিশীলতায় সাহায্য করবে তা বুঝাতে পারলেই বিনামূল্যে থাকার অনুমতি মিলবে দ্বীপ বাংলোতে থাকার। এ ছাড়া আপনার ইচ্ছা হলে বিনামূল্যে থাকার পাশাপাশি মানবকল্যাণে ৬০০ ডলারের অনুদানও করতে পারেন। যদিও এটিকে মোটেও থাকার বিনিময়মূল্য বলা যাবে না। কেন না ৬০০ ডলার সাহায্য তহবিলে জমা না দিলেও স্রেফ যুক্তিযুক্ত কারণ জানালেও অনুমতি মিলবে দ্বীপ তিনটির যেকোনো একটিতে থাকার। অবশ্য হ্যারেনের মালিকানাধীন ফিলিপাইনের পালাওয়ান দ্বীপটি সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে আপাতত ভিফার্নহোম ও ভানহোমেন নামের সুইডিশ দ্বীপ দু’টিতেই থাকার সুযোগ মিলবে। ইতোমধ্যে এসব স্থানে থেকে গেছেন বেশ ক’জন উদ্যোক্তা আর শিল্পীও। আর তাদের মতো আপনিও যদি কিছুটা সময় নিয়ে নিরিবিলি কোনো ভাবনায় মগ্ন হতে চান তাহলে আগামী ১ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনো একটি সময় বাছাই করে জানিয়ে দিতে হবে আপনার কারণটি।