রমজানে নফল ইবাদতের গুরুত্ব

  ড. আবু নোমান মো. আসাদুল্লাহ

 

রমজান মাসে রোযা রাখা প্রতিটি সক্ষম মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য। এ মাসে প্রতিটি ফরজ কাজের সওয়াব বহু গুণ বেড়ে যায় এবং কোনো ফরজ কাজ পরিত্যাগ করার শাস্তিও অনেক বেশি হয়ে যায়। সুতরাং রমজান মাস এমন মাস যার পবিত্রতা রক্ষা করা সকল মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। রমজান মাসে নফল ইবাদতের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেয়ার জন্য হাদিস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুল (স) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো নফল ইবাদত করবে তার সওয়াব অন্য যে কোনো মাসের ফরজ আদায় করার সমান এবং যে এ মাসে কোনো ফরজ আদায় করবে, অন্যান্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করার সমান সওয়াব পাবে।

মহানবী (স) আরো বলেছেন, এই মাস দরিদ্র ও অসহায়দেরকে সহযোগিতার মাস, যার উসিলায় মুমিনদের জীবিকা বর্ধিত হতে থাকে। এছাড়া রমজানের রোযা রাখা, তারাবিহর নামাজ পড়া, সঠিক সময়ে প্রতিটি ওয়াক্তের নামাজ পড়া, সত্য কথা বলা, ঝগড়াবিবাদ পরিহার করে চলা, অনৈতিকতা ও নগ্নতা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলা ইত্যাদি রমজান মাসের কর্তব্যকর্ম। বিশেষ করে কুরআন কারীমের তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে অধিক যত্নবান হওয়া জরুরি। কারণ রমজান মাসের সঙ্গে কুরআনুল কারীমের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষা ও কুরআন পড়া অতীব আবশ্যক। অর্থ সহকারে কুরআন বুঝে পড়াতে নিঃসন্দেহে সওয়াব অনেক বেশি। রমজান মাস ছাড়া অন্য সময়ে অনেক নফল ইবাদত করার সুযোগ তেমন হয় না, এ ধরনের নফল ইবাদতগুলো এ মাসে করা প্রয়োজন। যেমন- রমজান মাসে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করার সুযোগ খুব বেশি থাকে। রমজান মাসে যেহেতু শেষ রাতে সাহরি খাওয়ার জন্য উঠতেই হয় এজন্য একটু আগে উঠে সাহরির পূর্বে তাহাজ্জুদ পড়ে নিলে রমজান মাসের কারণে এ ইবাদতের মর্তবা অনেক বেশি হবে। তাছাড়া ইশরাকের নামাজ, চাশতের নামাজ, আওয়াবিনের নামাজ রমজান মাসে পড়ার সুযোগ যেমন বেশি তেমনি এর ফজিলতও বেশি। মহানবী (স) রমজানের রাত জেগে জেগে এমনভাবে নামাজ পড়তেন যে, তাঁর পা ফুলে যেত।

রমজান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় দান-সদকাও অধিক পরিমাণে করা উচিত। শুধু যাকাত ও ফিতরাই নয়, এর বাইরে নফল দান-খায়রাতের প্রতিও যত্নবান হওয়া কর্তব্য।  রমজান মাসে সর্বাবস্থায় যিকির আযকারে মশগুল থাকলে রমজানের সঠিক মূল্যায়ন হয়। অন্যান্য নিয়মিত কাজের মাঝে, কাজের ফাঁকে ফাঁকে মুখে সঞ্চারিত হবে আল্লাহর যিকির। আল্লাহর যিকির সার্বক্ষণিক হূদয়ে ধারণ করতে হবে। এছাড়া দরুদ শরীফ, ইস্তিগফার ও অন্যান্য যিকির আযকারে সর্বক্ষণ মশগুল থাকতে হবে। এ সমস্ত নফল ইবাদতের পাশাপাশি যে কোনো ধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকাও কর্তব্য এবং এটিও সওয়াব পাওয়ার মাধ্যম।

lলেখক :সহকারি অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী