সফলকাম মুমিনের পরিচয়

মু’মিনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করে যে, মহান আল্লাহ্ আমার সব কাজ-কর্ম চাক্ষুষ দেখছেন ও শুনছেন। মনে করে দু’জন লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতা তার ডানে ও বামে বসে সর্বদা তার কাজ-কর্ম লিপিবদ্ধ করছেন। সে মুখে যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য সদা তত্পর প্রহরী তার নিকটেই অবস্থান করছে। তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত কর, যেন তুমি তাঁকে প্রকৃতপক্ষে দেখছ, না হলে তিনি তোমাকে দেখছেন এর কোন ত্রুটি নেই। অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মু’মিনগণ। যারা বিনয়-নম্র নিজেদের নামাযে। যারা অসার ক্রিয়া-কলাপ হতে বিরত থাকে। যারা যাকাত দানে সক্রিয়। যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে। নিজেদের পত্নী অথবা দাসদাসী ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা হবে সীমালঙ্ঘনকারী। এবং যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় যত্নবান হয়। আর যারা নিজেদের নামাযে যত্নবান থাকে। তারাই হবে জান্নাতুল ফেরদাউসের উত্তরাধিকারী তারা সেখানে স্থায়ী হবে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ‘লা ইসলামী জীবন পদ্ধতিকে পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার জন্য ঈমানদারদেকে আদেশ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সার্বিক জীবনে ইসলামকে হূদয়ের গভীরে স্থান দেওয়ার মাধ্যমে ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে স্ব-স্ব জীবনে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হল সফল মু’মিনের পরিচয়। তাওহীদকে সঠিক করে, নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ঠিক ঠিক কাঁটায় কাঁটায় আদায়ের পরে আমৃত্যু পিতা-মাতার সাধ্যমত খেদমাত করা, ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে ভালোবেসে, কাঁদা মাটির মতো শরীরে মেখে নিয়ে, উত্তম স্বভাব ও আচার-আচরনের দ্বারা, সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার রেযামন্দী হাছিল করা প্রকৃত মু’মিনের আদর্শ। তাঁরা এক আল্লাহকে ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে সেজদা করে না, মানুষ যখন ঘুমিয়ে যায় তখন তাঁরা উঠে রবের স্মরণে তাহাজ্জুদের সলাতে দাঁড়িয়ে যান। এক মাস ফরয রোযা পালনের পর বছরের বিভিন্ন দিনে নফল ছিয়াম পালন করে থাকেন, সম্পদ সুষ্ঠু ও হালাল পথে আয় করেন এবং তার হক আদায়ের জন্য আল্লাহর ঘরে হজ্ব ও ওমরা পালন করেন। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে দারিদ্রতা বিলুপ্তীর লক্ষ্যে সম্পদ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হিসাব করে যাকাত প্রদান ও বন্টন নীতি অবলম্বন করেন। যাঁরা বাচ-বিচার করে বিভিন্ন নিত্য-নতুন অনুপ্রবেশকারী ফ্যাশন, ট্র্যাডিশন, সভ্যতা ও সংস্কৃতি গ্রহণ করে থাকেন। যা মন্দ তা বর্জন করেন, যা ভালো তা গ্রহণ করেন এবং যা চিরসত্য ও চিরন্তন সেই সভ্যতাকে আমরণ ধারণ করে থাকেন। যে সভ্যতা আল্লাহ চিরন্তন বলে ঘোষণা করেছেন, সে সভ্যতাকে সীমিত ও পরিবর্তনশীল জ্ঞানের অধিকারী কোন মানুষের কথায় বা বাঁধায় বর্জন করেন না তাঁরাই সফল মু’মিন। পক্ষান্তরে যারা দ্বীনের কিছু অংশ মেনে চলে আর কিছু অংশ অস্বীকার করে তারা এদেরকে বিভিন্ন ভাষায় ব্যঙ্গ করে থাকে। কারণ তারা মরণশীল মানুষের পরকালকে, দ্বীনকে ও আল্লাহকে প্রকৃত পক্ষে অবিশ্বাস করে থাকে।