ভাগ্য বনাম ধারাবাহিকতার লড়াই
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১২
আলোচনার মাধ্যমে ট্রফি দেয়ার কোনো ব্যবস্থা থাকলে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা হতো তার সবচেয়ে বড় দাবিদার! এই ট্রফিটা দুই দলেরই খুব দরকার। ভারতের দরকার দেশে চলমান আইপিএল ফিক্সিং নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড বন্ধ করার জন্য। আর দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ‘চোকার’ বা পলায়নপর দুর্নামটা অন্তত ঘোচানোর জন্য। আর এই দুই চাওয়া নিয়েই আজ আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাতটা থেকে মুখোমুখি হবে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। একই ভেন্যুতে মেয়েদের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড।
দুই দলের ট্রফির প্রয়োজনীয়তা একইরকম থাকলেও টুর্নামেন্টে চলার পথটা ছিল একেবারেই বিপরীত। দক্ষিণ আফ্রিকার সাধারণত যেটা হয়, এবারের টুর্নামেন্টে তার উল্টোটা হয়েছে। একটার পর একটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকা অসাধারণ খেলে হঠাত্ খেই হারিয়ে ফেলে ‘চোকার’ নাম পেয়েছে। এখন দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়রাও সেটা স্বীকার করেন।
কিন্তু এই টুর্নামেন্টে উল্টো দলগুলো তাদের বিপক্ষেই ‘চোক’ করছে; মানে অস্বাভাবিকভাবে হারছে। নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস; তিন দলের বিপক্ষেই একেবারে শেষ মুহূর্তে হারতে হারতে জয় পেয়েছে তারা। অবশ্য এই জয় একেবারে বিনাপরিশ্রমে আসেনি। মূলত বোলারদের শেষ সময়ে অসাধারণ ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ফলেই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় হয়ে সেমিফাইনালে চলে এসেছে আফ্রিকানরা।
বিপরীতে ভারতের সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাত্রা ছিল একেবারেই নিষ্কণ্টক। গ্রুপ পর্বের চার প্রতিদ্বন্দ্বী; বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ; কেউ তাদের ন্যূনতম বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কার্যত এক ম্যাচ হাতে রেখেই ভারত নিশ্চিত করে ফেলেছিল সেমিফাইনাল।
ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার পেছনে অবশ্যই মূল ভূমিকা রেখেছেন তাদের অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা তিন স্পিনার- অমিত মিশ্র, রবিচন্দন অশ্বিন ও রবীন্দ জাদেজা। সেই সঙ্গে টপ অর্ডার নিয়মিত রান পাচ্ছে এবং ধোনি-যুবরাজরাও শেষ দিকে রানে ফিরেছেন।
বোলিংয়ের ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও টেনে আনছেন তাদের বোলাররা, বিশেষত লেগ স্পিনার ইমরান তাহির; সেই সঙ্গে প্রতিকূল পরিবেশেই দারুণ বল করছেন ডেল স্টেইন। আজ লড়াইটা দুই দলের স্পিনারদেরই হবে বলে অনুমান করা যাচ্ছে।