পর পর তিনটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

পরপর তিনটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় রুনা খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধূকে তার স্বামী পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে রুনাকে রান্না ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে একে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন পাষন্ড স্বামী জাহিদুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরার মহম্মদপুরের পাল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে জাহিদ পলাতক। পুলিশ ও রুনা খাতুনের পরিবারের সদস্যরা জানায়, ১২ বছর আগে পাল্লা গ্রামের ফেলা মোল্যার ছেলে জাহিদুল ইসলামের সাথে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ঘোষপুর গ্রামের আব্দুল বাকি মোল্যার মেয়ে রুনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পেটাত জাহিদ। রুনার পরিবার তাদের সাধ্যমত একাধিকবার যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা ও বিভিন্ন জিনিসপত্র জাহিদকে দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এদিকে জাহিদ-রুনার ঘরে পরপর তিনটি মেয়ে সন্তান আসলে এতে আরো বিরক্ত হন জাহিদ। তিনি এর জন্য স্ত্রীকে দায়ী করে নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। রুনার প্রতিবেশীরা জানান, এর জের ধরেই গতকাল জাহিদ ব্যাপক পেটায় রুনাকে । অবস্থা বেগতিক দেখে জাহিদ তাকে রান্না ঘরের আড়ার সাথে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীরা রুনাকে উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের শরীরের একাধিক স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রুনার মেয়েরা হল: মিতু (৭), রিতু (৫) ও জিতু (২) । লাশের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত রুনার ভাই দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, তার বোনকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নিহতের বড় মেয়ে মিতু উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তার মায়ের উপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। মহম্মদপুর থানার এসআই আশরাফুল আলম বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে নিহতের শরীরের ডান কানে, পিঠসহ বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।