মানদণ্ড অনুযায়ী যন্ত্রপাতি স্থাপনে ব্যর্থ হলে জুলাই থেকে উত্পাদন স্থগিত

ট্যানারি ব্যবস্থাপনায় আলাদা কোম্পানি হচ্ছে

 ইত্তেফাক রিপোর্ট

আগামী জুলাইয়ের মধ্যে প্রত্যেক ট্যানারি মালিককে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। আলোচ্য সময়ের মধ্যে যন্ত্রপাতি স্থাপনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ট্যানারির উত্পাদন স্থগিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সার্বিক বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গতকাল বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিচালনার জন্য ‘ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাস্টেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে। সেখানে অবস্থিত ট্যানারি মালিকদের সমন্বয়ে ওই কোম্পানি গঠন করা হবে। সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৬ মের মধ্যে ওই কোম্পানিতে যুক্ত হতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় ট্যানারি মালিকরা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের কমপ্লায়েন্স সনদ অর্জনের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা বলেন, এটি দ্রুত না করা হলে, ২০২১ সাল নাগাদ চামড়া শিল্প খাতে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে। সভায় জানানো হয়, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপির অবশিষ্ট যন্ত্রপাতি সিডিউল অনুযায়ী প্রাক জাহাজীকরণ পরিদর্শন (পিএসআই) শেষে স্থাপন করা হবে। চীনা ঠিকাদার কোম্পানি আগামী চার মাসের মধ্যে সিইটিপি পুরোপুরি চালু এবং দেশীয় জনবলকে প্রশিক্ষিত করে কোম্পানির কাছে পরিচালনার দায়িত্বভার হস্তান্তর করবে। এছাড়া, চামড়া শিল্পনগরীর সলিড বর্জ্য ডাম্পিংয়ের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করার বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত  নেওয়া হয়। 

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম, অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ, বিসিক চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান, এলএফএমইএবির চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, বিএফএলএলএফইএর চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিনসহ বুয়েট, বিসিক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে প্লটের মূল্য কমানো, সলিড বর্জ্য ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা, ট্যানারি মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ এবং লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের কমপ্লায়েন্স অনুসরণের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজনসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।

সালমান ফজলুর রহমান বলেন, যেসব ট্যানারি মালিক জমির নির্ধারিত মূল্য পরিশোধে আগ্রহী নন, তাদের প্লট বাতিল করা হবে। ইতোমধ্যে অনেক চামড়া শিল্পোদ্যোক্তা সরকার নির্ধারিত মূল্যেই প্লটের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি জানান।