নারীদের মুখ খোলা উচিত ডাক্তারের কাছে

পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস বারডেম, ঢাকা গোপন কথা; কেন রহিবে গোপনে? ডাক্তার ও উকিলের কাছে বলতে হয়। তানাহলে চিকিত্সা করে ভালো করা যাবে কিনা। উকিলও সব নাজানলে মামলাতে লড়াই করবেন কিভাবে। সারা পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ নারী লজ্জায় বলতে পারেননা অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা, বারবার প্রস্রাব, খুব বেশি ঘাম হওয়া, যোনিদেশে দুর্গন্ধ, গ্যাস আরো অনেক বিব্রতকর সমস্যা। এ নিয়ে মহিলারা কথাই বলতে চাননা ডাক্তারের কাছে। সবচেয়ে বিব্রতকর হলো টয়লেট টক বিষয়গুলো। প্রসাধনঘর প্রসঙ্গ। স্নানঘরে বা প্রসাধন ঘরে যা যা সমস্যা হয়-যেমন বারবার প্রস্রাব, মূত্রথলির সমস্যা, মলত্যাগে সমস্যা, হজমে সমস্যা, ঋতুস্রাবে সমস্যা, যোনি স্রাব.... আর বলা যাবেনা, মুখ ফুটে বলা যায় সব? নিউ জার্সির একজন নারী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: ডনিকা মুর তো বলেন সেকথা, টয়লেট টক ঘিরে যেসব কথা, দেহগন্ধ, মুখের নি:শ্বাসে গন্ধ এবং সব নিয়ে তেমন বলতেও কেমন যেন লজ্জা লাগে। তবে ডা: ডনিকা মুর বলেন এসব বিষয়ে নীরব, ঠোট দুটো চেপে থাকা-এসবে লাভ নেই; বরং ক্ষতিই বেশি। অনেক ক্ষেত্রেই এসব সমস্যার কার্যকর চিকিত্সা আছে। তাই ডাক্তারের কাছে মুখ ফুটে বললে এবং চিকিত্সা হলে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। মহিলাদের এমন ছয়টি বিব্রতকর স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে নীরব থাকা যে উচিত নয় তাই বলতে চেয়েছেন ডা: ডনিকা মুর। যেমন- বারবার প্রস্রাব এদেশের কথা জানিনা তবে আমেরিকায় ১৭০ লক্ষ নারীর মূত্রথলি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা। তবু একথা বলতে বড়ই বিব্রত নারীরা। কারণ তাদের ধারণা, একবার টয়লেট ট্রেনড্ হলে নিয়ন্ত্রণে আর কোন অসুবিধা হবে না। এসব সমস্যা বুড়ো হওয়ার সঙ্গেও জড়িত। আর অনেকেই স্বীকার করতে চাননা যে তারা বুড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে তিন জন মহিলাদের মধ্যে একজন মহিলার সমস্যা হলো বারবার প্রস্রাব এবং তাদের গড় বয়স ৩৫ এর নিচে। টয়লেট ট্রেনড্ হওয়ার পরও প্রস্রাব চুয়ে পড়া অস্বাভাবিক বটে, তবে সুসংবাদ হলো এসব সমস্যার জন্য নানা রকমের চিকিত্সা বিকল্প রয়েছে। রোগীকেই ডাক্তারকে মুখ ফুটে বলতে হয় যে, বারবার প্রস্রাব হচ্ছে বা চুয়ে চুয়ে পড়ছে। এমনিতে ডাক্তার এসব প্রশ্ন করেননা রোগীদের। রোগীকেই আগ বাড়িয়ে বলতে হয়। দায়িত্বটি পড়ে রোগীর কাঁধেই। তাই প্রথমে ডাক্তারের কাছে যান এবং মুখ ফুটে বলুন, ডাক্তার সাহেব আমার প্রস্রাব চুয়ে চুয়ে পড়ে বা বারবার প্রস্রাব হয়। এক্ষেত্রে নিজের খেয়াল নিজে রাখলে তেমন একটা লাভ হবেনা। অনেক মহিলা আছেন যাদের মূত্রথলি অতি সক্রিয়, তারা তরল গ্রহন একেবারেই কমিয়ে দেন এবং এতে বরং মূত্রথলির উত্তেজনা প্রবণতা বেড়ে গিয়ে হিতে বিপরীত হতে পারে। বারবার প্রস্রাব স্বাভাবিক নয়, তবে ঋতুবন্ধ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে এ সমস্যা হতে পারে, বলেন, মেয়ো ক্লিনিকের নারী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জ্যাকুলিন আয়েলিন। কিছু খাদ্যবিধিতে পরিবর্তন, কিগেলের ব্যায়াম করে প্রস্রাবের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে যেসব পেশী এদের শক্তিশালী করলে সুফল পাওয়া যেতে পারে। বারবার প্রস্রাব অন্তর্গত রোগের কারণেও হতে পারে; তা মূল্যায়ণ প্রয়োজন। আবার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও হতে পারে। গ্যাস যদি হয় সবারই গ্রাস হয়, স্বীকার করতে চাননা, একে নিজের বলে ধারণও করতে চাননা। মুর বলেন, গ্যাস সাধারণত: খাওয়া নিয়েই সমস্যা। তাই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে এর সমাধান সম্ভব। প্রয়োজনে ওষুধও গ্রহণ করা যেতে পারে। মেয়ো ক্লিনিকের জ্যাকুলিন আয়েলিন বলেন, কেবল বীনস, মটরশুটি, মূলা খেলে গ্যাস হবে তা কেন? তবে স্ট্র দিয়ে তরল পান করলেও পেটে বাতাস ঢোকে আবার ক্রসিফেরাস সবিজ যেমন বাঁধাকপি খেলে পেটে প্রচুর গ্যাস হয়। ইরিটেবল বাওয়েল সিনেড্রাম (আইবিএস) এই রোগ হলে পেটে বেশ ব্যথা হয়, বা অস্বস্তি হয়। মলত্যাগের অভ্যাসে হয় পরিবর্তন। তরল মল বা বারবার মলত্যাগ, ডায়রিয়া বা কোষ্টবদ্ধতা। উইসকনসিনে মিলাউকিতে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ফাংশন্যাল গ্যাসট্রোইনটেসটিন্যাল ডিসওর্ডারসের সূত্রমত; সাধারণ জনগোষ্ঠির ১০-১৫ % এ সমস্যায় ভুগছেন। জ্যাকুলিন আয়েলিন বলেন, লোকজন নিজেদের একটু ভিন্ন মনে করেন অন্যদের থেকে। তবে তা বেশ সচরাচর অনেকের হয় আইবিএস। বিশেষ করে মেয়েদের। এর মধ্যেও জীবনকে সহনীয় করার অনেক উপায়ও আছে। অনেক নারী নীরবে এই রোগভোগ করেন অথচ তারা জানেনা এরকম অনেকেই এর শিকার। খুব বেশি বেশি ঘামা অনেক নারী বেশি বেশি ঘাম হলে বেশ লজ্জিত বোধ করেন। হাতের তালু ঘামুক বা বগল ঘামুক। বগল ঘেমে ব্লাউজ ভিজে গেলে বেশ অস্বস্তিও বোধ করেন। এক্ষেত্রে ডাক্তার দেখানো উচিত। আছে এন্টিপারস্পিরেন্ট, হয়ত খুব গুরুতর হলে বোটক্স ইনজেকশন চিকিত্সকের পরামর্শে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু সেটা হতে হবে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শে ও তত্বাবধানে। থিয়েলেন বলেন, যদি দেখেন ঘর্ম নি:সরণে কোনও ব্যতিক্রম ও সমস্যা হচ্ছে, প্রচুর ঘাম হওয়ার জন্য কাজকর্ম করা যাচ্ছে না ঠিকমত। দৈনন্দিন জীবনে ক্লেশের কারণ হচ্ছে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। যোনিদেশে দুর্গন্ধ দুর্গন্ধ হতে পারে জীবানু সংক্রমণের জন্য। থিয়েলেন বলেন, এমন গন্ধ ছত্রাক সংক্রমণের জন্যই হবে, তাও নয়। অনেকে ফার্মেসী থেকে কিনে আনেন ছত্রাকরোধী ক্রিম; অতিব্যবহার করেন। তাই যথার্থ চিকিত্সা আড়ালে থেকে যায়। চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়াই বিধেয়। কাম ইচ্ছার অভাব নারীরা প্রায় সময় তা মুখ ফুটে বলতে পারেন না। তবে তা হতে পারে নানা কারণে। যেমন শারীরিক, মনোগত, জৈবিক, সামাজিক নানা কারণ থাকতে পারে। এর অনুসন্ধান প্রয়োজন হতে পারে। যেমন ধরুন, একজন মহিলা তার বুড়ো মা-বাবার দেখভাল করার দায়িত্ব নিয়েছেন। বেশীরভাগ সময় এভাবেই কেটে যায়। তাই স্বামীসঙ্গ, ভালোবাসা এসবের ফুসরত্ তেমন নেই। নিজেও হয়ত থাকতে পারেন না কাছাকাছি। আরও কারণ থাকতে পারে, যেমন- বিষন্নতা, দুশ্চিন্তা বা নিজের সম্বন্ধে হীনমন্যতা। হূদরোগ, ডায়াবেটিস, ওষুধের কারণে কামইচ্ছা দমে যেতে পারে।