ইডেমা বা শরীরে অতিরিক্ত পানি
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:১১
মানব দেহের টিসু বা কলায় অতিরিক্ত পানি জমে ফুলে যাওয়ার নাম ইডেমা। শরীরের
যে কোন স্থানে পানি জমতে
পারে, তবে পা, পেট, হাত
এবং মুখ এসব স্থানে ইডেমা
বেশী দেখা যায়।
যেসব কারণে ইডেমা হয়
১. খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ
২. হার্ট ফেইলিওর
৩. কিডনি রোগ
৪. লিভার সিরোসিস
৫. গর্ভকাল
৬. লিম্ফ বা লসিকা চলাচলে বাধা
৭. দীর্ঘক্ষন দাড়িয়ে বা বসে থাকা
৮. কিছু ওষুধ- ক্যালসিয়াম ব্লকার, ব্যথানাশক, স্টেরয়েড ইত্যাদি।
কোন কোন সময় ইডেমা হার্ট ফেইলিওর, কিডনি রোগ বা লিভার সিরোসিসের মত জটিল রোগের উপসর্গ বা চিহ্ন হিসাবে দেখা দেয়। হার্ট ফেইলিওর হলে হূদযন্ত্র সংকোচনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিমাণ রক্ত বের করতে পারে না। ফলে ফুসফুস, পা, পেটে পানি জমে যায়।
কিডনি অসুস্থ হলে প্রস্রাবের মাধ্যমে দেহের অপ্রয়োজনীয়
পানি ও লবণ বের করতে পারে না। ফলে, চোখের চারিদিক বা পায়ে পানি জমে ফুলে যায়। লিভার সিরোসিস হলে প্রোটিন উত্পাদন কমে যায়। ফলে পানি রক্তনালীর ভিতরে না থেকে
বাইরে চলে যায়। তাই ঐ স্থান ইডেমা হয়ে ফুলে যায়।
উপসর্গ
১. আক্রান্ত স্থান ফুলে যাওয়া।
২. চামড়ার উজ্জলতা ও ইলাসট্রিসিটি কমে যাওয়া।
৩. আক্রান্ত অঙ্গ ভারী হয়ে চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করে।
৪. শ্বাস কষ্ট হতে পারে।
চিকিত্সা-
চিকিত্সকের পরামর্শমত
চিকিত্সা গ্রহণ করতে হবে। চিকিত্সার পাশাপাশি যা
করতে হবে-
১. পরিমিতি পুষ্টিকর খাবার
খেতে হবে।
২. আলগা লবণ ও লবণাক্ত
খাবার খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে।
৩. ধূমপান বর্জন করতে হবে।
৪. সাধ্যমত কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করতে হবে।
৫. তেল-চর্বি-মিষ্টি কম খেতে হবে
৬. উচ্চ রক্তচাপ, ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ বা ডায়াবেটিস থাকলে ভালোভাবে চিকিত্সা ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৭. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
শেষকথা-
ইডেমা একটি ধারাবাহিক
রোগ যা চিকিত্সা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে
রাখা প্রয়োজন। মনে রাখতে
হবে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার
দেন কিউর’। নিয়মিত
চিকিত্সার পাশাপাশি ইডেমা
যাতে চরম আকার ধারন
করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য করণীয়-
১. চিকিত্সকের পরামর্শে ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ করতে হবে।
২. আলগা লবণ খাওয়া
যাবে না।
৩. যে কোন সংক্রমণের
চিকিত্সা জরুরি ভিত্তিতে
করতে হবে।
৪. রক্তশূন্যতার ঘাটতি পূরণ করা
৫. থাইরয়েডের চিকিত্সা করা।
৬. গর্ভকালীন বিশেষ যত্ন।
৭. সহনীয় মাত্রায় নিয়মিত ব্যায়াম করা।
৮. তেল-চর্বি-মিষ্টি কম খাওয়া।
৯. উত্তেজনা প্রশমণ করা।
১০. ভারী কাজ না করা।
১১. ওজন আদর্শ মাত্রায় রাখা এবং
১২. আদর্শ জীবন যাপন করা।
ডা. লিয়াকত হোসেন তপন
হূদরোগ বিশেষজ্ঞ ও
সহকারী অধ্যাপক
জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট, ঢাকা
মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লি: