রংপুর সেচখালে পানি নেই শ্যালো মেশিনই ভরসা

তিস্তা ব্যারাজের আওতায় রংপুর সেচখালে পানি মিলছে না। বোরো আবাদ নিয়ে চাষিদের যখন হাহাকার অবস্থা ঠিক তখন প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর সেচখালে মাছ চাষ করা হচ্ছে। আর খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এক কর্মকর্তা সেচখালের পানি দিয়ে এই মাছ চাষ করছেন। চাষিরা অভিযোগ করেন, ব্যারাজে যতটুকু পানি পাওয়া যায় তা রেশনিং পদ্ধতিতে সবগুলো সেচখালে দেয়ার কথা। কিন্তু ওই কর্মকর্তার মাছ বাঁচাতে রংপুর ও বগুড়া সেচখালে পানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে শুধুমাত্র দিনাজপুর সেচখালে পানি দেয়া হচ্ছে। সরেজমিনে প্রকল্পের সেচখাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রংপুর প্রধান সেচখালে পানি নেই। কষ্ট করে হলেও সর্বত্র বোরো চারা রোপণ করে খালভুক্ত চাষিরা পানি আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে বোরো ক্ষেতগুলো। বিকল্প হিসেবে বড় চাষিরা সেচখালের পার্শ্বেই শ্যালো মেশিন বসিয়ে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। পানি আসার অপেক্ষায় বসে থাকা রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলদাদপুর এলাকার জফুর আলী বলেন, এই মুহূর্তে তিস্তায় পানি পাওয়া না গেলে রংপুর সদর, গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, নীলফামারী, সৈয়দপুর, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, ডিমলা, চিরিরবন্দরসহ এ অঞ্চলের ব্যাপক এলাকার চলতি বোরো আবাদ হুমকির মুখে পড়বে। পানির অভাবে তিন বিঘা জমিতে লাগানো বোরো চারা নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন দোন্দরা এলাকার এনামুল হক। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান তিস্তা সেচখালে পানিশূন্যতার কথা স্বীকার করে বলেন, যেখানে কমপক্ষে ৫ হাজার কিউসেক পানি প্রয়োজন সেখানে পানি পাচ্ছি মাত্র ৪০০ থেকে ৪৮০ কিউসেক। তাও আবার উজানে দিনাজপুর সেচখালে সরবরাহ করা হচ্ছে। দিনাজপুর সেচখালে মাছ চাষ করার কথা স্বীকার করে পানি উন্ন্য়ন বোর্ডের আতিক নামের ওই কর্মকর্তা বলেন, সামান্য জায়গায় মাছ চাষ করেছি। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নারায়ণ চন্দ্র জানান, তিনটি মূল ক্যানেলের মধ্যে রংপুর ও বগুড়া সেচখালের আওতায় চাষিরা পানি পাচ্ছে না। শুধু দিনাজপুর খালে একটু পানি দেয়া সম্ভব হচ্ছে।