সুন্দরগঞ্জে পূর্ব ঠিকানায় ফিরতে শুরু করছে চরাঞ্চলের মানুষ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষ পূর্ব ঠিকানায় ফিরতে শুরু করেছে। নদীবেষ্টিত তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, শ্রীপুর, চন্ডিপুর ও কাপাশিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলগুলো পরিদর্শনে দেখা গেছে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া বাস্তুভিটাহারা মানুষজন নতুন জেগে ওঠা চরে আবার বসবাস করতে শুরু করেছে। এসকল মানুষজন একসময়ে করালগ্রাসী নদীগর্ভে বাস্তুভিটা হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে স্থান খুঁজে নেয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে। গত কয়েক বছর থেকে নদীর বুকচিরে চর জেগে ওঠায় তারা তাদের পূর্ব ঠিকানায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। এছাড়া চরগুলোতে বোরো, আমন, পাট, তামাক, বাদাম, কাউন, চিনা, গম, সরিষা, ভুট্টা, আলু, মরিচ, পিঁয়াজ, লাউ, শিম, রসুনসহ বিভিন্ন তরকারি, মসলা ও দানাদার শস্য সারাবছর ধরে ফলাতে শুরু করেছেন। ভাটি বুড়াইল, উজান বুড়াইল, বাদামের চর, কাজিয়ার চর, লাল চামারের চর, মিন্টু মিয়ার চর, সাঞ্জু মিয়ার চর, পোড়ার চর, কালাই সোতার চর, রাঘব, চর চরিতাবাড়ি, ছয়ঘরিয়া, লখিয়ার পাড়া প্রভৃতি চরগুলোতে সারাবছর ধরে বসতবাড়ি নির্মাণ ও ফসল ফলাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ফিরে পাওয়া বাপ-দাদার ভিটা-মাটির ওয়ারিশরা। বাদামের চরের হালিমা বেগম, জমিলা খাতুন, পোড়ার চরের বজলার রহমান, নাইমউদ্দিন, মিন্টু মিয়ার চরের আজিজুল হক, নজরুল ইসলামসহ অনেকে জানান- দীর্ঘ ৪০ বছর পর বাপ-দাদার ভিটা ফিরে পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। চেয়ারম্যান জহুরুল হক জানান-তার ইউনিয়নের ভিটা-মাটিহারা মানুষজন চরাঞ্চলে ফিরতে শুরু করায় চরাঞ্চলগুলো আবারও কোলাহলপূর্ণ হয়ে উঠছে।