বরিশালে বড় জয় আওয়ামী লীগের রাজশাহীতে বিএনপির
সাইদুর রহমান ও মাহবুব রনি
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৭
চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে ভালো করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সবচেয়ে বেশি ভালো ফল হয়েছে বরিশাল বিভাগে। এই বিভাগের নির্বাচনে ৩৯টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৩৩টি। আর বিএনপি পেয়েছে মাত্র ৪টি। রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলক ভালো করেছে বিএনপি। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ভালো ফলাফল করেছে বিএনপির। ৬৫টি উপজেলার মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৩১টি। আর আওয়ামী লীগ ২০টি। এই বিভাগে জামায়াত পেয়েছে ১৪টি চেয়ারম্যান পদ। বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জের কোন উপজেলায় বিএনপি চেয়ারম্যান পদে জিতেনি। অন্যদিকে মানিকগঞ্জ, মাগুরা, মেহেরপুর, বগুড়া ও বান্দরবানে আওয়ামী লীগ কোন চেয়ারম্যান পদ পায়নি।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী ৪৮৭টির মধ্যে পাঁচ ধাপে এ পর্যন্ত ৪৫৮টির নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ ধাপে সহিংসতা ও অনিয়মের কারণে কয়েকটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত থাকায় তিনটি উপজেলার ফলাফল ঘোষণা বন্ধ রয়েছে। ৪৫৫টির ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিদ্রোহীসহ আওয়ামী লীগ ২৩২, বিএনপি ১৬২, জামায়াতে ইসলামী ৩৬, জনসংহতি সমিতি ৯, ইউনাইটেট পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ ৪, জাতীয় পার্টি-জাপা ৩, জাতীয় পার্টি-জেপি ১, এলডিপি ১ ও স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য ৭টি চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছে। বাকি ২৯টি উপজেলার মধ্যে ২১টি নির্বাচন আগামী ৩ মে করার পরিকল্পনা করেছে কমিশন।
সামগ্রিক ফলাফলে আওয়ামী লীগ এবার ভালো করলেও ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তুলনায় খারাপ ফল পেয়েছে। ওই নির্বাচনে ৪৬৭ উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ সর্বাধিক ৩০৬ উপজেলায় জয়ী হয়েছিল। ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি ৭৭ উপজেলায় জয় পেয়েছিল। এবার দলটি ১৬২ উপজেলায় জয় পেয়েছে। গত নির্বাচনে ২০টি চেয়ারম্যানের পদ পেলেও এবার জামায়াতে ইসলামী থেকে ৩৬ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে জাতীয় পার্টি গতবার ২০টি উপজেলায় জয় পেলেও এবার মাত্র ৩টিতে জয়ী হয়েছে। পাঁচ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ৭ কোটি ৬২ লাখ ১১ হাজার ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ। গড়ে ভোট পড়ার হার ৬১ দশমিক ৪২ ভাগ। নির্বাচনে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৪৮ লাখ। এ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোট বাতিল হয়েছে। বাতিল ভোটের সংখ্যা ২০ লাখ ১৭ হাজার। নির্বাচনে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় বাতিল ভোটের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা। ভোটের হিসাবে আওয়ামী লীগ বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থনে জয়ী চেয়ারম্যানরা প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ভোট পেয়েছেন, যা জয়ী চেয়ারম্যানদের প্রাপ্ত মোট ভোটের ৫৬ ভাগ। বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যানরা পেয়েছেন প্রায় ৭৭ লাখ ভোট, যা জয়ীদের মোট ভোটের ৩২ ভাগ। আর জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যানরা প্রায় ২৭ লাখ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন, যা প্রাপ্ত ভোটের ১১ ভাগ। অন্য দলগুলোর অবস্থান শতকরা এক ভাগেরও কম।
বরিশাল বিভাগে জয়ী আওয়ামী লীগ
বরিশাল বিভাগের ৪২টি উপজেলার মধ্যে ৩৯টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। একটির ফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। দু’টি উপজেলায় নির্বাচন হয়নি। ৩৯টির মধ্যে বিদ্রোহীসহ আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৩৩টি, বিএনপি ৪টি, জাতীয় পার্টি-জেপি ১টি, জামায়াত ১টি। বরিশালের ১০টি, ঝালকাঠির ৪টি ও ভোলার ৭টির সবকয়টিতে জিতেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পটুয়াখালী জেলায় ৮টি উপজেলার মধ্যে ৭টিতে নির্বাচন হয়েছে। একটির ফলাফল স্থগিত আছে। দু’টি বিদ্রোহীসহ ৬টিতেই আওয়ামী লীগ জিতেছে। পিরোজপুরের ৭টি উপজেলার মধ্যে বিএনপি জিতেছে ৩টি, আওয়ামী লীগ ২টি, জাতীয় পার্টি-জেপি ১টি ও জামায়াত ১টি চেয়ারম্যান পদ। বরগুনার ৬টি উপজেলার মধ্যে তালতলীর নির্বাচন হয়নি। ৫টির ৪টিই জিতেছে আওয়ামী লীগ। বেতাগীতে বিএনপি জিতেছে।
রাজশাহী বিভাগে ভালো করেছে বিএনপি
রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার ৬৬ উপজেলার মধ্যে ৬৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিভাগে বিদ্রোহী-সমর্থিতসহ আওয়ামী লীগের ২০ জন, বিএনপির ৩১ জন, জামায়াতের ১৪ জন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এই বিভাগে চেয়ারম্যান পদে ভালো ফল করেছে বিএনপি। রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ২ জন, বিএনপির ৫ জন এবং জামায়াতের ২ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ১ জন, বিএনপির ২ জন এবং জামায়াতের ২ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। নাটোর জেলার ৬টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের ১ জন, বিএনপির ৫ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৪ জন, বিএনপির ৫ জন এবং জামায়াতের ২ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। পাবনা জেলার ৯টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের ৫ জন, বিএনপির ২ জন এবং জামায়াত সমর্থিত ২ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত ৮টির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৬ জন, বিএনপির ২ জন বিজয়ী হয়েছেন। একটির নির্বাচন স্থগিত আছে। বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় বিএনপির ৭ জন এবং জামায়াতের ৫ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। জয়পুরহাট জেলার ৫টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের ১ জন, বিএনপির ৩ জন এবং জামায়াতের ১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
খুলনা বিভাগে এগিয়ে আওয়ামী লীগ
খুলনা বিভাগের ১০টি জেলায় ৫৯টি উপজেলা রয়েছে। পাঁচ ধাপে সবগুলোয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৩৬টি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ। বিএনপি ১৮টি এবং জামায়াতে ইসলামী ৫টি। মেহেরপুর ও মাগুরা জেলার সবগুলো উপজেলায় জিতেছে বিএনপি।
খুলনা জেলায় মোট ৯টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৬টি, বিএনপি ২টি, জামায়াতে ইসলামী ১টি। যশোর জেলায় মোট ৮টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৫টি, বিএনপি ৩টি। সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৬টি আর একটি জামায়াত। বাগেরহাট জেলায় ৯টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৮টি ও একটি বিএনপি। কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৪টি ও ২টি বিএনপি। মেহেরপুর জেলায় মোট ৩টি উপজেলার সবকয়টিতে জিতেছে বিএনপি। চুয়াডাংগা জেলায় মোট ৪টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৩টি। একটি জামায়াত। নড়াইলের ৩টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ ২টি ও বিএনপি ১টি। মাগুরা জেলায় ৪টি উপজেলার সবকয়টি বিএনপি জিতেছে। ঝিনাইদহ জেলায় মোট ৬টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২টি, বিএনপি ২টি ও জামায়াত ২টি।
রংপুর বিভাগে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমানে সমান
রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার ৫৮টি উপজেলার মধ্যে ৫৩টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিভাগে বিদ্রোহী-সমর্থিতসহ আওয়ামী লীগের ২১ জন, বিএনপির ২০ জন, জামায়াতের ৯ জন, জাতীয় পার্টির ২ জন এবং স্বতন্ত্র একজন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। রংপুর জেলার ৮টি উপজেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত ৪টির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১ জন, বিএনপি সমর্থিত ১ জন, জামায়াত সমর্থিত ১ জন এবং স্বতন্ত্র ১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। ৪টির নির্বাচন হয়নি। কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৫ জন, বিএনপির ৪ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৩ জন এবং বিএনপির ২ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। পঞ্চগড় জেলার ৫টি উপজেলার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ২ জন, বিএনপির ২ জন এবং জামায়াতের ১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত ৪টির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ১ জন এবং বিএনপির ৩ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
গাইবান্ধা জেলার ৭টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের ১ জন, বিএনপির ২ জন, জামায়াতের ৩ জন এবং জাতীয় পার্টি সমর্থিত ১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। নীলফামারী জেলার ৬টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের ৪ জন, জামায়াতের ১ জন এবং জাতীয় পার্টির ১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের ৪ জন, বিএনপির ৬ জন এবং জামায়াতের ৩ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগেও ভালো ফল আওয়ামী লীগের
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় ১০০টি উপজেলা আছে। ৭টির নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯৩টির নির্বাচন হলেও ৯২টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৪৪টি, বিএনপি ২৮টি, জামায়াত ৫টি, জনসংহতি সমিতি ৯টি, ইউপিডিএফ ৪টি, এলডিপি ১টি ও স্বতন্ত্র ১টি। এর মধ্যে ফেনীর ৬টি উপজেলার সবকয়টিতে আওয়ামী লীগ জিতেছে। বান্দরবানের ৭টি উপজেলার একটিতেও দলটি জিততে পারেনি।
চট্টগ্রাম জেলায় ১৪টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৮টি, বিএনপি ২টি, জামায়াতে ইসলামী ৩টি ও এলডিপি ১টি। চাঁদপুর জেলায় মোট ৮টির মধ্যে ১টির নির্বাচন স্থগিত আছে। ৭টির মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৫টি ও ২টি বিএনপি। কুমিল্লার ১৬টি উপজেলার ৩টির নির্বাচন হয়নি। ১৩টির মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৭টি ও ৬টি বিএনপি। নোয়াখালীতে ৯টি উপজেলার মধ্যে সদরের নির্বাচন স্থগিত। ৮টির মধ্যে একটি বিদ্রোহীসহ আওয়ামী লীগ ৫টি ও বিএনপি ৩টি। ফেনী জেলায় মোট ৬টি উপজেলার সবগুলোয় জিতেছে আওয়ামী লীগ। লক্ষ্মীপুরের ৫টির মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৪টি ও বিএনপি ১টি। খাগড়াছড়ির ৮টি উপজেলার মধ্যে ইউনাইটেট পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ পেয়েছে ৪টি, আওয়ামী লীগ ১টি, বিএনপি ২টি, স্বতন্ত্র ১টি। রাঙ্গামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে জনসংহতি সমিতি-জেএসএস একটি সংস্কারপন্থীসহ পেয়েছে ৬টি, বিএনপি ২টি ও আওয়ামী লীগ ২টি। বান্দরবান জেলায় মোট ৭টি উপজেলা। জনসংহতি সমিতি পেয়েছে ৩টি, বিএনপি ৩টি ও জামায়াত ১টি। কক্সবাজার জেলায় মোট ৮টি উপজেলার মধ্যে ৭টির নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। আওয়ামী লীগ পেয়েছে একটি বিদ্রোহীসহ ৩টি, বিএনপি ৩টি ও জামায়াত ১টি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ৯টি উপজেলার ২টির নির্বাচন হয়নি। ৭টির মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৩টি ও ৪টি বিএনপি।
ঢাকা বিভাগে আওয়ামী লীগের কাছাকাছি বিএনপি
ঢাকা বিভাগের ১২২টি উপজেলার মধ্যে ১১২টির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৬৫টি, বিএনপি ৪৪টি, জাতীয় পার্টি-জাপা ১টি ও স্বতন্ত্র ২টি। আর ১০টি উপজেলার নির্বাচন হয়নি। ঢাকা বিভাগের মধ্যে মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলার সবকয়টি পেয়েছে বিএনপি। মাদারীপুরের ৪টির মধ্যে ৩টিতে নির্বাচন হয়েছে, একটির নির্বাচন হয়নি। ৩টির সবগুলোয় জিতেছে আওয়ামী লীগ। গোপালগঞ্জের ৫টি উপজেলার মধ্যে একটি বিদ্রোহীসহ আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৩টি। দু’টি স্বতন্ত্র জিতেছে। ঢাকা জেলায় উপজেলা ৫টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ জিতেছে কেরানীগঞ্জে। আর বাকী ৪টিতে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরাই জয়লাভ করেছেন। ফরিদপুর জেলায় মোট ৯টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৫টি, একটি বিদ্রোহীসহ বিএনপি ৪টি। শরীয়তপুরের ৬টির মধ্যে আওয়ামী লীগ জিতেছে ৫টি ও বিএনপি ১টি। রাজবাড়ী জেলায় মোট ৫টি উপজেলার একটির নির্বাচন হয়নি। ৪টির মধ্যে আওয়ামী লীগ জিতেছে ৩টি ও বিএনপি ১টি। মুন্সীগঞ্জ জেলায় মোট ৬টি উপজেলার ১টির নির্বাচন হয়নি। ৫টির মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৪টি ও বিএনপি ১টি। নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫টি উপজেলার মধ্যে ২টির নির্বাচন হয়নি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২টি ও ১টি বিএনপি। কিশোরগঞ্জ ১৩টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৮টি, বিএনপি বিদ্রোহীসহ ৪টি, জাতীয় পার্টি-জাপা ১টি। নেত্রকোনার ১০টি উপজেলার মধ্যে ১টি স্থগিত আছে। ৯টির মধ্যে একটি বিদ্রোহীসহ আওয়ামী লীগ ৫টি ও বিএনপি ৪টি। শেরপুরের ৫টির ২টি উপজেলায় নির্বাচন হয়নি। ৩টির মধ্যে আওয়ামী লীগ ১টি ও বিএনপি ২টি। ময়মনসিংহের ১২টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭টি ও বিএনপি ৫টি। জামালপুরের ৭টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩টি ও বিএনপি ৪টি। টাঙ্গাইল জেলায় মোট ১২টি উপজেলা। ১টির নির্বাচন হয়নি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৯টি, বিএনপি ২টি। গাজীপুর জেলায় মোট ৫টি উপজেলার ১টির নির্বাচন হয়নি। ৪টির মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৩টি ও বিএনপি ১টি। নরসিংদীর ৬টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৩টি ও ৩টি পেয়েছে বিএনপি।
সিলেট বিভাগ আওয়ামী লীগ-বিএনপির হাড্ডাহাড্ডি
সিলেট বিভাগের ৪টি জেলার ৩৮টি উপজেলার মধ্যে ৩৬টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিভাগে বিদ্রোহী-সমর্থিতসহ আওয়ামী লীগের ১৭ জন, বিএনপির ১৫ জন, জামায়াতের ২ জন এবং স্বতন্ত্র একজন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। সিলেট জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত ১১টির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৪ জন প্রার্থী, বিএনপির ৫ জন এবং জামায়াতের ২ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। একটি স্থগিত আছে। সুনামগঞ্জ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত ১০টির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৩ জন প্রার্থী এবং বিএনপির ৭ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। একটির নির্বাচন হয়নি। হবিগঞ্জ জেলার ৮টি উপজেলার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৫ জন প্রার্থী, বিএনপির ২ জন এবং স্বতন্ত্র ১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের ৬ জন এবং বিএনপি সমর্থিত ১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।