অন্ধত্ব প্রতিরোধে এগিয়ে আসুন
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫৮
অন্ধত্ব বাংলাদেশে এক অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতি বছর অনূর্ধ্ব ৬ বছর বয়সী অনেক শিশু এতে আক্রান্ত হয় এবং অনেকে অন্ধ হয়ে যায়। এদের মধ্যে অনেকে আবার মৃত্যুবরণ করে। যারা বেঁচে থাকে তারাও পরিবার, সমাজের বোঝা হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে। স্বাস্থ্য ও পুষ্টিজ্ঞানের অভাবে এ করুণ পরিণতি হচ্ছে। কিন্তু আমরা একটু সচেতন হলে এ অকাল মৃত্যু ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ করতে পারি। শিশুরা যদি দীর্ঘদিন ধরে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার না খায় তাহলে ধীরে ধীরে তাদের দৃষ্টিশক্তি লোপ পায় এবং অন্ধত্ববরণ করে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় পুষ্টিসেবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অন্ধত্ব প্রতিরোধে বছরে দুবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ এপ্রিল থেকে জাতীয় ভিটামিন ক্যাম্পেইন ২০১৪ পালিত হচ্ছে। ওয়ার্ড পর্যায়ে ইপিআই আউটরিচটিকা দান কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ আইইউ) ও ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লাখ আইইউ) খাওয়ানো হচ্ছে। রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, বাসস্টেশন সব জায়গা থেকে শিশুকে ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। তাই অবহেলা না করে শিশুকে ভরাপেটে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। এছাড়া ক্যাম্পেইন পরবর্তী দিন থেকে ৪ দিন ধরে বাদ পড়া শিশুদের বাড়ি বাড়ি খুঁজে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে। ভিটামিন ‘এ’ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকেই শিশুদের রক্ষা করে না—শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও জটিলতা এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। তাই আসুন এ ব্যাপারে অন্যকে সচেতন করি—অন্ধত্ব প্রতিরোধ করি।
শ্যামল চৌধুরী, নেত্রকোনা