আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৪
আফগানিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার তালেবানের হামলার হুমকির মধ্যেই ভোটগ্রহণ হয়। তবে বড় ধরনের কোনো অঘটনা ঘটেনি। যদিও একে যুক্তরাষ্ট্রের পাতানো নির্বাচন আখ্যা দিয়ে তা বর্জনের ডাক দিয়েছিল তালেবান।
শনিবার আফগানিস্তানের স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে। তালেবানের হামলার হুমকি সত্বেও ঠাণ্ডা মেঘলা আবহাওয়ার মধ্যেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন পড়ে। তালেবান হুমকি মোকাবেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আগামী ২৪ এপ্রিল এই নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হবে। তবে যদি কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে ব্যর্থ হন তাহলে কাউকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হবে না। সেক্ষেত্রে মে মাসের শেষের দিকে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রার্থী হবেন গতকালের নির্বাচনে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান পাওয়া প্রার্থী। খবর এএফপির।
কাবুলের দক্ষিণে লোগার প্রদেশে একটি ভোট কেন্দ্রে এক বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি নিহত ও অপর ২ জন আহত হয়। জেলা প্রধান আবদুল হামীদ হামিদ মোহাম্মদ আগা এ কথা জানান। এছাড়া আরো কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা হয়েছে। তবে মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে এই নির্বাচন হয়েছে। দেশটির ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে ১ কোটি ৩৫ লাখ ভোটার। নির্বাচনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ ও আলমি রাসুল এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আশরাফ ঘানির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২০০১ সালে তালেবান সরকারের পতনের পর থেকে দেশটি শাসন করে আসা প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের আমল শেষ হচ্ছে। পর পর দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী কারজাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
প্রেসিডেন্ট কারজাই কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছের একটি স্কুলে ভোট দেয়ার পর বলেন, ‘আমি আমার ভোট দিয়েছি, আফগানিস্তানের একজন নাগরিক হিসেবে আমি আনন্দিত ও গর্বিত বোধ করছি। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য, আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। শত্রুর হুমকি, ঠান্ডা আবহাওয়া ও বৃষ্টি সত্ত্বেও আমি আফগান জাতিকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার এবং দেশকে সাফল্যের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ নিরপেক্ষ থাকার ঘোষাণা দিয়ে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু রাখার বিষয়টি তদারকি করার কথা জানিয়েছেন কারজাই।