স্ম র ণ

আখতারুন্নাহার বেবী প্রগতির পথে একজন

কালের অতল গহ্বরে তলিয়ে যায় সময়। আজ যা বর্তমান কাল তা অতীত হয়ে যায়। কালক্রমে অতিক্রান্ত হয় দিন মাস বছর। এমনি করে প্রিয় মানুষগুলোর না ফেরার দেশে যাওয়ায় সময়টাও দীর্ঘ হতে থাকে। কিন্তু যারা চিন্তা-চেতনায় কর্মে নিজের অবদান রাখেন, তারা দূরে গিয়েও ফিরে ফিরে আসেন বিশেষ দিনে-ক্ষণে। আজ ৭ এপ্রিল পালিত হতে যাচ্ছে মহিলা অঙ্গনের সাবেক বিভাগীয় সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাকের অন্যতম পরিচালক বেগম আখতারুন্নাহার বেবীর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার প্রথম কন্যা ছিলেন। আজ আমরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি ‘মহিলা অঙ্গন’ পাতায় নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত লিপিবদ্ধ করতেন। নারীবাদকে তিনি তার লেখায় প্রগতিশীলতার সাথে স্থান দেন। দেশ, সমাজ, নারী, শিশু, ধর্ম, বঞ্চিতদের কথা তাঁর লেখায় স্থান করে নিত। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘নিবেদন’ শিরোনামের সেই সকল সুচিন্তিত মতামতের থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হল— ‘সোনা মাখা এই শ্যামল বাংলা। আমরা এই বাংলাদেশকে ভালবাসি। বাংলা আমাদের দেশকে বিশ্বের কাছে বরেণ্য করে তুলব। একে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অবশ্য কর্তব্য। দেশকে গড়ে তুলতে হবে। স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলতে হবে। ধনী-দরিদ্রের বিরাট পার্থক্য ঘুচিয়ে দেব আমরা। আজ আমাদের ভাবতে হবে, গরীবকে অভুক্ত রেখে তাদেরই মেহনতে প্রাসাদোপম মহল তৈরি করাই, তাদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির সামান্য মূল্য দিয়ে। তাছাড়া নিরাশ্রয় অনাহারক্লিষ্ট গরীব জনগণের জন্য সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি থেকে একটু মাথা গোঁজার আশ্রয় আর ক্ষুধায় দুটো ডালভাত এও কি সবাই পাবে না? আমরা কি তাদের বঞ্চিত করে রাখব নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য? বেঁচে থাকার সংগ্রাম দেশ ও জাতির খেদমতে এগিয়ে যেতে হবে। বোনেরা আমাদের সন্তানদের একটি সুস্থ সমাজ উপহার দেবার জন্য আসুন এ সংগ্রামে যোগ দেই শরীক হই।’ উল্লেখ্য, নববর্ষকে সামনে রেখে তিনি এই আহ্বান করেছিলেন।