তানোর হাইস্কুলে সন্ত্রাসী হামলা শিক্ষক প্রহার :ভাংচুর

রাজশাহীর তানোরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী উত্ত্যক্তের অভিযোগের জের ধরে স্কুলে হামলা, ভাংচুর ও শিক্ষকদের মারধর করে দুই ঘন্টা অফিসে অবরুদ্ধ রেখে হত্যার হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার উপজেলার ময়েনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এ ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। থানায় অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ময়েনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে এক মাস আগে ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে ময়েনপুর গ্রামের ফারুক হোসেন, মাসুদ রানা, পায়েল, হান্নান, শামীম ও হাজী মফিজ স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক শামসুল হক ও সহকারী শিক্ষকদের চড়-থাপ্পর মেরে অফিসে ঢুকিয়ে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এসময় ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়ে আতঙ্কে বই-পুস্তক ফেলে স্কুল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার বেশ কয়েক ঘন্টা পরে মুন্ডুমালা তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষকদের উদ্ধার করে। এসময় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ময়েনপুর গ্রামের প্রভাবশালী হাজী মফিজ ও ফারুকসহ বেশ কয়েকজন মিলে তার কাছে ‘সমাজের লোকজনকে’ খাওয়ানোর নামে ৫০ হাজার টাকা খরচ দাবি করেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় গত ১০ মার্চ লাঠি-সোঁটা নিয়ে তাকে মারপিট করার জন্য ধাওয়া করেন। তিনি অন্যের বাড়িতে পালিয়ে রক্ষা পান। পরে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। প্রধান শিক্ষক শামসুল হক জানান, তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর ও শিক্ষকদের মারপিট করে লাঞ্ছিত করা মেনে নেয়া যায় না। মিথ্যা অভিযোগ তুলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবে আক্রমণ করা বেআইনি। এনিয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।