শিল্পাঙ্গনে ‘চিত্রে সুচিত্রা’

সুচিত্রা সেন যে বাঙালির কতটা প্রিয় তার আরেকটি প্রমাণ নিয়ে হাজির হয়েছে গ্যালারি শিল্পাঙ্গন। গতকাল রবিবার মহানায়িকার জন্মদিনে তারা আয়োজন করেছে ‘চিত্রে সুচিত্রা’ শীর্ষক প্রদর্শনী। সম্ভবত কোন ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন বাংলাদেশে এটাই প্রথম। দেশের নবীন-প্রবীণ শিল্পীরা নানাভাবে সুচিত্রাকে তুলে এনেছেন তাদের ক্যানভাসে। তার হূদয় তোলপাড় তোলা চাহনি, হাসি, থুতনি উঁচু করে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকানো—অভিনয় জীবনের প্রতিটি মোহনীয় ভঙ্গি উঠে এসেছে ক্যানভাসে। এছাড়া শিল্পী ভিন্ন অবয়বেও এঁকেছেন তাকে। গ্যালারি শিল্পাঙ্গনের পরিচালক রুমী নোমান বললেন, বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে ভালোবাসে। তিনি মানুষের হূদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। সেই ভালোবাসা প্রকাশের জন্যই এ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর শিল্পী বাছাই করা হয়নি। যারা এঁকেছেন তাদের সবার ছবি স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। গতকাল রবিবার এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন। এসময় তিনি ‘আমাদের রমা:আমাদের সুচিত্রা’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী বীরেন সোম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও গ্রে অ্যাডভার্টাইজিং বাংলাদেশের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক গউসুল আলম শাওন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সঙ্গীত শিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্যালারি শিল্পাঙ্গনের পরিচালক রুমী নোমান। সবাই প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। সেলিনা হোসেন বলেন, রমার জন্ম একসময়ের পূর্ববঙ্গে। আর ইতিহাসের দেশভাগে রমা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের। কিন্তু শেকড়ের টান থেকে গেছে বাংলাদেশে। সেজন্য বাংলাদেশের মানুষ সুচিত্রার মৃত্যুতে জোয়ারের মত ভালোবাসায় ভাসিয়ে দিয়েছে নিজেদের আবেগ, চলচ্চিত্র শিল্পের দক্ষ শিল্পী সুচিত্রার জন্য। বীরেন সোম বলেন, সুচিত্রা সেন আমাদের প্রজন্মই শুধু নয়, পরবর্তী কয়েকটি প্রজন্মেরই প্রিয় নায়িকা। তাঁকে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য এই প্রদর্শনী আয়োজন এক অনন্য উদ্যোগ। পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতার উল্লেখ করে বলেন, ‘এ পৃথিবী একবার পায় তারে’। সুচিত্রা সেনের মত এমন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মনে স্থান করে নেয়ার ক্ষমতা খুব কম অভিনেত্রীর হয়। গউসুল আলম শাওন বলেন, সুচিত্রা সেনকে নিয়ে প্রচণ্ড আবেগ কাজ করে মানুষের মনে। সুচিত্রা-উত্তম জুটির প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিরাজ করছে। প্রদর্শনীতে ৩০ জন শিল্পীর ৬২টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া শিল্পীরা হলেন হামিদুজ্জামান খান, শেখ আফজাল, আহমেদ শামসুদ্দোহা, বীরেন সোম, রণজিত্ দাস, কনক চাঁপা চাকমা, কাজী রাকিব, গৌতম চক্রবর্তী, রা কাজল, কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়, রেজাউন নবী, জামাল আহমেদ, সৈয়দ ইকবাল, আলোপতোগিন তুষার, রশীদ আমিন, গুলশান হোসেন, প্রশান্ত কর্মকার, জাভেদ জলিল, অনুকূল মজুমদার, মোঃ কামালুদ্দিন, আমজাদ আকাশ, ফারজানা আহমেদ ঊর্মি, সৈয়দ জাহিদ ইকবাল, মোঃ হানিফ পাপ্পু, মোঃ শোয়েব, সোহাগ পারভেজ, ইকবাল বাহার চৌধুরী, সোহেল রানা প্রাণন, আইভি জামান ও সুমন ওয়াহিদ। ধানমন্ডির ৩০ নম্বর সড়কের ৭ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় গ্যালারি শিল্পাঙ্গনে আয়োজিত দুই সপ্তাহের এই প্রদশর্নী চলবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। শিশুদের মৌসুমী প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ শিশু একাডেমি আয়োজিত শিশুদের মৌসুমী প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে। রবিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ছিল প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পদক প্রদান অনুষ্ঠান। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে শিশুদের পারস্পরিক সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার, দলগত সমঝোতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের ৮ মার্চ থেকে দেশব্যাপি শিশুদের মৌসুমী প্রতিযোগিতা শুরু হয়। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে জেলা ও অঞ্চল (বিভাগীয়) পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে যারা সফল হয়েছে তারা ৩ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিশুদের মধ্য থেকে দলীয়ভাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের মধ্যে ৪টি বিষয়ে দলীয়ভাবে মোট ৪৮টি স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রঞ্জপদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। বিজয়ীদের পদক তুলে দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন একাডেমির চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আহাদ। ‘আমার প্রিয় মাতৃভূমি ৪ প্রদর্শনী আগামীকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডির আঁলিয়স ফ্রঁসেজে শুরু হচ্ছে শিল্পী মোহাম্মদ আবু সেলিমের ‘আমার প্রিয় মাতৃভূমি ৪’ শীর্ষক চতুর্থ একক কার্টুনচিত্র প্রদর্শনী। ওইদিন সন্ধ্যা ছয়টায় ধানমন্ডির আঁলিয়স ফ্রঁসেজে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন ইমেরিটাস প্রফেসর আনিসুজ্জামান। আঁলিয়স ফ্রঁসেজ দো ঢাকার পরিচালক অলিভিয়ে লিতভিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান এবং রম্যলেখক কার্টুননিষ্ট আহসান হাবীব।