পরীক্ষাকে ভয় পাবে না এবং নিজের ওপর আস্থা রাখবে

এম. এ. কালাম অধ্যক্ষ, গুলশান কমার্স কলেজ, ঢাকা প্রিয় এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। ইতোমধ্যে এইচ.এস.সি-২০১৪ এর পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ সময়ে তোমাদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ হল, পরীক্ষা কিছুটা ভালো-মন্দ হতেই পারে, এ নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামিয়ো না, এমনকি পরীক্ষা ভালো হলেও নয়, কারন এ ক্ষেত্রে অনেকে অতি উত্ফুল্ল হয়ে পরবর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কিছুটা অমনোযোগি বা উদাসিন হয়ে পড়ার সম্ভবনা থাকে, আর খারাপ হলে মন খারাপ এবং হতাশা থেকে মানসিক এমনকি শারীরিক ভাবেও ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা থেকে পরবর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি খারাপ হতে পারে। যা অত্যন্ত দু:খজনক। তাই যে পরীক্ষাটি শেষ হল সেটা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে বরং পরের পরীক্ষাটি নিয়ে চিন্তা করা অর্থাত্ ভালোভাবে পরবর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া উচিত। বিষয়টিতে অভিভাবকদেরই উদ্যোগী হতে হবে। বিশেষকরে তাদের উচিত বিগত পরীক্ষা ভালো-মন্দ যাই হোক সেটা নিয়ে নিজে মাথা না ঘামানো এবং সন্তানও যাতে তা করার সুয়োগ না পায়, সেজন্য প্রশ্ন অন্যত্র সরিয়ে রাখা উচিত। পরীক্ষায় সময় ব্যবস্থাপনা ভালো ফলাফলের একটি বড় উপায় তথা কৌশলও বটে। অর্থাত্ প্রত্যেকটি প্রশ্নোত্তরের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে সেই সময়ের মধ্যে উত্তর সম্পন্ন করতে পারলে রিভিশন দিয়ে পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব। প্রশ্নের ধরন এবং মান বুঝে উত্তরের সময় বরাদ্দ করবে। আর সহজ ও কমন পড়া প্রশ্নের উত্তর আগে দেবে। কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর ভালো জানা আছে বলে অধিক সময় ধরে লেখা যাবে না। উল্লেখিত বিষয়ে সজাগ থাকলে দেখবে তোমার মনোবল অনেক বেড়ে যাবে এবং অন্যান্য প্রশ্ন অপেক্ষাকৃত সহজ মনে হবে। এতে তোমার পরীক্ষাভীতিও বহুলাংশে কমে যাবে। আর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে ইতোপূর্বে পড়া বিষয়গুলো একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে রিভিশন দেওয়া। গণিতের সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত প্রতিটি অধ্যায় রিভিশনের মাধ্যমে নিয়মিত ও বারবার চর্চা করতে হবে। সব বিষয়ের জন্য মূল বইটি ভালোভাবে অনুধাবনসহ বারবার পড়বে। অনুরূপ ইংরেজিসহ সৃজনশীল বিষয়গুলোতে কখনোই মুখস্থ বিদ্যা দ্বারা ভালোফল লাভ করতে পারবে না। সৃজনশীল প্রশ্নের বিষয়গুলোর জন্য মনোযোগসহ বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকগণের নির্দেশনা অনুসারে অর্জিত জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, অনুধাবন, বিচার-বিবেচনা ও বিশ্লেষণপূর্বক পাঠ গ্রহণ করবে। একই সাথে সৃজনশীল কোনো প্রশ্ন কঠিন মনে হলে বারবার পড়বে। এটি তখন অপেক্ষাকৃত সহজ মনে হবে। বিশেষকরে সৃজনশীল প্রশ্নের উদ্দীপক ও প্রশ্ন হুবহু পাঠ্যবই কিংবা কোনো নোট বা গাইড বই থেকে দেওয়া হবে না। শিক্ষক নিজে তার মতো করে এগুলো তৈরি করবেন। এইচ.এস.সি একটি পাবলিক পরীক্ষা। এর মাধ্যমে তোমার মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি পাওয়ার একটি উপায়, যা তোমার পরবর্তী শিক্ষা ও কর্মজীবনে অনেক কাজে লাগবে, বিশেষকরে উচ্চতর শ্রেণিতে ভর্তি ও জীবনের সব ক্ষেত্রেই। পরীক্ষার সময়ে নিয়মিত পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করবে এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিবেশ ও এর প্রভাব বলয় থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলবে। বিশেষকরে শরীরের কোনো অঙ্গে আঘাত লাগতে পারে এমন খেলাধুলা বর্জন করবে। আর পরীক্ষাকে কখনও ভয় পাবে না। নিজের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখবে।