ভালোফলের জন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:২১
জাবের ইবনে তাহের
নবম শ্রেণি (ক্রমিক নং-১)
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা
পরীক্ষায় সবাই কেন ভালো রেজাল্ট করতে চায় বুঝি না, তবে ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য মেধাবী হওয়ার প্রয়োজন নেই, দরকার শুধু সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। শিক্ষাকে আমাদের বিনোদনের একটি অনন্য মাধ্যম মনে করা উচিত। এই ভাবনাটুকু আমাদের লেখাপড়ার প্রতি ভয় দূর করে উত্সাহ এবং আগ্রহ সৃষ্টি করবে।
শিক্ষার্থীদের ভয়টুকুই তাদের সবচেয়ে বড় শক্র। আর এই ভয় সৃষ্টি করার পেছনে মুখ্যভাবে দায়ী আমাদের সমাজ। একজন শিড়্গার্থীর মনে যদি পড়ালেখার প্রতি ভয় সৃষ্টি না করে তাকে উত্সাহ দেয়া যায় তখনই আনন্দময় শিক্ষাটুকু হবে। আমরা যখন নতুন ক্লাসে উঠি শিক্ষকেরা বা আশেপাশের মানুষজন বলতে থাকেন, ”এতদিন তো ছোট ক্লাসে ছিলা, পড়ালেখা যে কি কঠিন জিনিস এবার বুঝবা”। এভাবেই আমরা আমাদের অজান্তেই শিক্ষার্থীর মনে পড়ালেখার প্রতি ভয় সৃষ্টি করি। সে তখন পড়তে বসে ভয় নিয়ে, মনের আনন্দ বা আগ্রহ নিয়ে নয়। তার মনে হতে থাকে আমার দ্বারা বোধ হয় পড়ালেখা সম্ভব নয়। এই ভাবনাগুলো তার সাবকনশাস মাইন্ডে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। অনেকে আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে পরীক্ষার সময় এসে পড়েছে অথচ সে কিছুই পারে না। কিংবা পরীক্ষার সময় পার হয়ে যাওয়ার পর তার ঘুম ভাঙে। তার অবদমিত মন ভাবতে শুরু করে সে আসলেই বুঝি পরীক্ষায় ফেল করবে, যার কারণে পরীক্ষার হলে গিয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক পারা জিনিসও খেয়ে বসে থাকে। আর এ সবই সৃষ্টি হয় মনের ভয় থেকে। নতুন ক্লাসের ফিজিক্স বইটাকে সবাই ভয় পাচ্ছে। এই বইয়ের অবস্থা আগন্তুক এলিয়েনের মত। সবাই তাকে ভয় পাচ্ছে, কিন্তু কেউ পরখ করে দেখছে না সে
আসলে আমাদের জন্য উপকারী কি না। তাই আমাদের সকলের উচিত শিক্ষার প্রতি ভয় দূর করে তাকে পরখ করে দেখতে এবং লেখাপড়ায় অন্যকে উত্সাহিত করতে, কখনই তাকে ভয় পাইয়ে দেয়া নয়।
আমরা যখন পাঠ্য পুস্তকের যে বিষয়টা পড়ছি সেই বিষয় নিয়ে পড়ার সাথে সাথে প্রশ্ন করা এবং চিন্তা করাও প্রয়োজন। এতে পাঠ্য পুস্তকের বিষয়টা আমাদের বুঝতে আরও সহজ হবে, চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পাবে। সৃজনশীলতা বা সৃজনক্ষমতা ভালো ফলাফলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেএেই সৃজনশীলতা আমাদের প্রয়োজন। তাই একেবারে ছোট থেকেই প্রত্যেকের উচিত সৃজনশীলতার চর্চা করা। এগুলো আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যাবস্থার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দিনদিন পড়ালেখা সৃজনশীলতা নির্ভর হচ্ছে। জীবনে প্রথমবারের মত যদি কেউ গল্প লিখে মনে করে যে গল্পটা ভালো হয় নি, আমার মধ্যে সৃজনশীলতা নেই, তবে এটি তার ভুল ধারণা। বর্ণমালা শিখিয়েই যদি রবি ঠাকুরকে কবিতা লেখার জন্য কলম হাতে তুলে দেয়া হত, তিনি কখনই প্রথমবারে গীতাঞ্জলী লিখে ফেলতে পারতেন না। তাই আমাদের ভেতরকার সৃষ্টিশীলতাকে জাগিয়ে তোলার জন্য তার নিয়মিত চর্চা প্রয়োজন।
ভালো রেজাল্টের জন্য এই মৌলিক জিনিসগুলোর চর্চাই প্রয়োজন। আর কিছুর দরকার নেই।