ঢাবিতে উত্সবমুখর সমাবর্তন
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১০
উত্সবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম সমাবর্তন। গতকাল সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ। এ বছর সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মানসূচক ‘ডক্টরেট অব সায়েন্স’ ডিগ্রী দেয়া হয় ‘ইউরোপীয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ’র (সার্ন) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. রোল্ফ ডিটার হুয়ারকে। তিনি সমাবর্তন বক্তা হিসাবে অনুষ্ঠানে গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ জন গবেষককে পিএইচডি, ২৫ জনকে এমফিল, ৩৩ জনকে স্বর্ণপদক, ৩৪ জনকে এমডি-এমএস এবং ৮ হাজার ৩১২ জন গ্র্যাজুয়েটকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এদিকে সমাবর্তন উপলক্ষে দিনভর আনন্দে মেতে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন প্রাঙ্গণে নিজেদের আনন্দময় স্মৃতি ধরে রাখতে ক্যামেরায় ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন তারা।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ বলেন, শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয় বরং বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ ও গভীর দেশপ্রেম জাগ্রত করার একমাত্র উপায় হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা। তিনি বলেন, বিশ্বজনীন মনুষ্যত্ব বোধসম্পন্ন জাতি গঠনের কাজে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আত্মনিয়োগ করতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে আনন্দের সংযোগ ঘটাতে হবে। সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষা নয়, নোট মুখস্ত করে পাস করার শিক্ষা নয়, আলোকিত মানুষ হবার শিক্ষা চাই। সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব গড়ার শিক্ষা চাই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছাত্রজীবনের বিভিন্ন ঘটনা এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যার স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজের পশ্চাত্পদ শক্তি শিক্ষার আলোকে ভয় পায়। মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয়ী হলেও পঁচাত্তরের এই প্রতিবিপ্লবের ফলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তির লড়াই, প্রগতি ও প্রতিক্রিয়ার লড়াই, শুভ ও অশুভের লড়াই, ধর্মপরায়ণতা ও ধর্মান্ধতার লড়াই আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে শেষ হয়ে যায়নি। এ লড়াইয়ে শুভ শক্তি জয়ী না হলে রাষ্ট্র-জাতি হিসাবে আমরা আবার পিছিয়ে যাব।
সমাবর্তন বক্তা: সার্ন মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. রোল্ফ ডিটার হুয়ার বলেছেন, মানব সভ্যতার উন্নয়নে মৌলিক গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিজ্ঞানের ভাষা সর্বজনীন, এক ও অভিন্ন। তাই আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে গড়ে তুলতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক-অধ্যাপক সত্যেন বোসের কৃতিত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পদার্থ বিজ্ঞানী সত্যেন বোস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি শুধু বিজ্ঞানীই নয়, বিজ্ঞানীর চেয়েও বেশি কিছু ছিলেন। তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি কিন্তু পদার্থ বিজ্ঞানে তিনি যে উচ্চ আসনে রয়েছেন তা শুধু তার ক্ষেত্রেই ঘটেছে। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত অনেক পদার্থ বিজ্ঞানীকেই আমরা চিনি না। কিন্তু সত্যেন বোস নোবেল পুরস্কার না পেয়েও চির অনন্য।
গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রোল্ফ ডিটার হুয়ার বলেন, আজকের গ্রাজুয়েটরা জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন। অর্জিত জ্ঞান দেশ ও মানুষের কল্যাণে প্রয়োগ করতে হবে। মানুষের কল্যাণ সাধনের চেয়ে বড় কোনো তৃপ্তির বিষয় নেই।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মানব সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ সমাবর্তনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন। রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমান সমাবর্তন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, ঢাবি সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।