নারায়ণগঞ্জে জোড়া খুনের সন্দেহভাজন ঘাতকের মাকে আটক

দেশের অন্যতম পাইকারী মোকাম নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে ‘নায়না-২ ফ্লাওয়ার মিলস’ নামের একটি ময়দার কারখানাতে জোড়া খুনের ঘটনায় যাকে পুরোপুরি সন্দেহ করা হচ্ছে সেই তাহের হোসেনের সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। সে অধরা থাকলেও আটক করা হয়েছে তাহেরের মা খাদিজা বেগমকে। সে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকাতেই বসবাস করতো। তাকেসহ ঘটনার পর আটক ৯ শ্রমিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রবিবার সকালে লাশ পাওয়ার পর রাতে খুন হওয়া নৈশপ্রহরী আবদুল আজিজের ভাই শুক্কুর ও শ্রমিক হোসেন আলীর ভাই আবুল হোসেন বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পলাতক শ্রমিক তাহের হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার রাতে নাইট শিফটে ১২ জন কাজ করছিল। রাত ২টার পর তাহের ও হোসেন ছাড়া সবাই ঘুমিয়ে পড়ছিল। তারা দুজন দুটি মেশিনে কাজ করছিল। রাতে কোন এক সময়ে তাহের পরিকল্পিতভাবে দুইজনকে গলা কেটে হত্যা করে। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, কারখানাতে শনিবার রাত থেকে নাইট শিফটে ১২ জন কাজ করেছিল। ডে শিফটের লেবার সরদার মনির হোসেনের কাছে ভোর সাড়ে ৪টায় রাতে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিক ফোন করে জানান, শ্রমিক হোসেন মারা গেছে। পরে মনির হোসেন বিষয়টি কারখানা মালিক ও পুলিশকে জানান। সকাল ৮টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিচতলার অফিসকক্ষ থেকে নৈশপ্রহরী আবদুল আজিজের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে। পুলিশ দ্বিতীয় তলার সিঁড়িকোটায় শ্রমিক হোসেন মিয়ার লাশ দেখতে পায়। ওসি জানান, ঘটনার পর তাহের হোসেন নামের এক শ্রমিক পলাতক রয়েছে। অন্য ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাহের হোসেনই পুরো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময়ে গেটের তালা মেরে দেয়। পুলিশ তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে।