আইন বিষয়ে পড়াশোনা

দেশসেরা বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯১১ সালে তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চালু করে আইন বিষয়ে পড়ানো। শুরুতে স্নাতকোত্তর চালু থাকলেও ১৯৭৩ সালে চালু করে স্নাতক পর্যায়ে আইন শিক্ষা। প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষায় ঘ ইউনিট থেকে মেধা তালিকার শীর্ষে থাকা ১৫০ জন শিক্ষার্থী সুযোগ পায় আইন নিয়ে পড়ার। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিফুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তার স্বপ্ন আর সফলতার কথা। সফলতার সাথে স্নাতক সম্পন্ন করতে পেরে বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি। বর্তমানে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের অধীনে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী হয়ে তিনি দেশ ও সমাজের সেবা করতে চান। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান আইনের সেবা। আইন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শেষ করে এদের মধ্যে অনেকেই সহকারী জজ পদের জন্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সুযোগ হয়ে যায় বিভিন্ন জেলায় সহকারী জজ হিসেবে কাজ করার। আবার অনেকেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অধীনে অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এ পরীক্ষায় শুরুতেই থাকে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ, এরপর উত্তীর্ণ হলে তাকে ১০০ নম্বরের রিটেন এবং সাক্ষাত্কারে অংশ নিতে হয়। উত্তীর্ণরা দুই বছর জেলা আদালতে প্র্যাকটিস সম্পন্ন করে হাইকোর্টের সনদভুক্ত হবার জন্য আবেদন করে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. হাসান তালুকদার আইনজীবীদের সম্পর্কে যোগ করলেন আরও কিছু শব্দ। তিনি বলেন, আইনজীবীরা এবং আইনের শিক্ষকরা সাধারণত বিজ্ঞ এবং মেধাবী হন। বিভাগের সেরা ছাত্রটি সাধারণত সুযোগ পেয়ে থাকে এই বিষয়টি পড়ানোর। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা ছাত্রদের এই বিষয়ে গড়ে তুলবার জন্য বিভিন্ন সময়ে সেমিনার, কোর্ট ভিজিট, মুট কোর্ট এবং ডিবেট কম্পিটিশানসহ নানা ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এছাড়াও আইন বিষয়ে পড়াশুনা করে অনেকেই বিসিএস পরীক্ষায় ভালো করছেন। কেউ কেউ ব্যাংক, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান, এনজিও এসব জায়গাতে লিগ্যাল এডভাইজার হিসেবে কাজ করে থাকেন। আবার কেউ চান ইনকাম ট্যাক্স অফিসার হিসেবে কাজ করতে। কাজের এত সুযোগ থাকার এই বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছিল সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শৈলী জারিন তাসনিমের সাথে। তিনি জানান, এই বিষয়ে পড়ার স্বপ্ন ছিল তার বহুদিনের। বড়দের কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন। তাসনিম আরও বলেন, যেহেতু মেয়েদের জজ হবার আগ্রহ বেশি থাকে, তাই দেশের একজন খ্যাতনামা জজ হয়ে মানুষের কল্যাণে আসতে চান। তাই কেউ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়তে চাইলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আইন বিষয়টি। অনেকেই এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে ঝুঁকছেন এই বিষয়টি নিয়ে পড়ার জন্য। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত দুই ধরনের আইন শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। এসবের মধ্যে রয়েছে নর্থ আমেরিকান কন্সটিটিউট এবং ব্রিটিশ ইন্সটিটিউট। ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইনস্টিটিউট, ইউডাসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় মূলত নর্থ আমেরিকান কন্সটিটিউট অনুসরণ করে থাকে। ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন আর পিছিয়ে নেই। চাকরিক্ষেত্রে বেশ ভালো অবস্থানে আছে এখানকার স্নাতকরা। অপরদিকে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ভালোভাবে পড়াশুনা করলে ঠিক চার বছরেই স্নাতক শেষ করা সম্ভব হচ্ছে। আর অপরদিকে গুলশানের নিউক্যাসেল এবং ধানমণ্ডির ভুঁইয়া একাডেমী এবং এলসিএলএস ইতিমধ্যেই সুনাম কুড়িয়েছে ব্রিটিশ কন্সটিটিউট অনুসরণ করে। আইন বিষয়ের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় আজকাল বিজ্ঞান এবং বাণিজ্য বিভাগ থেকেও অনেকেই আসছেন এই বিষয়ে পড়ার জন্য। কেননা কোন একটি দেশের আইন সে দেশের মেরুদণ্ড স্বরূপ। যে দেশের আইন যত বেশি উন্নত সে দেশ আজ তত বেশি এগিয়ে। আর কোন ব্যক্তিই সে দেশের আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মডেল:শাকিল, সামিয়া, রাজ, অর্নি। ছবি:অন্তর