বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাসে স্ট্রবেরি চাষ
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:২০
বায়োটেকনোলজি বিষয়ে নতুন নতুন গবেষণা আর উদ্ভাবনের জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের যে কয়জন আন্তর্জাতিকমানের বিশিষ্ট গবেষক রয়েছেন তাঁদের মধ্যে প্রফেসর ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম অন্যতম। ড. তোফাজ্জল বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষিক্ষেত্রে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে পরিচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। তাঁর গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হল টেকসই কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো। তিনি গাজীপুরে ৪ জন ক্ষুদ্র মহিলা খামারিদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় জমি নির্বাচন, চাষাবাদ কৌশল এবং স্ট্রবেরি থেকে উচ্চ মূল্য বিশিষ্ট জ্যাম-জেলি-স্কোয়াশ তৈরির কৌশল সর্ম্পকে খামারি ও সম্প্রসারণকর্মীদের একাধিক ওয়ার্কশপের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করেন। দেশের অভ্যন্তরে এ নতুন ফলটির প্রতি ভোক্তার আগ্রহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় স্ট্রবেরি উত্পাদনের উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণ দেশে পুষ্টি চাহিদাপূরণ ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক হবে।
তিনি মনে করেন রোগমুক্ত চারা সরবরাহ, চাষাবাদ ও বালাইদমন কৌশল অবলম্বন, বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কৌশল শিখাতে পারলে স্ট্রবেরি এদেশে অত্যন্ত লাভজনক ফসল হিসেবে প্রসার লাভ করবে। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে স্ট্রবেরি উত্পাদনে রাসায়নিক বালাইনাশকের বিকল্প বাংলাদেশের পরিবেশ থেকে আবিস্কৃত উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও উন্নয়নকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পও বাস্তবায়ন করে চলছেন।
তিনি সম্ভাবনাময় উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও রোগদমনকারী ৫০টি ব্যাকটেরিয়া জিন সিকুয়েন্সিং-এর মাধ্যমে শনাক্ত করেন। জাপান, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের বায়োটেকনোলজি ল্যাবে গবেষণালব্ধ উন্নত কলাকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দেশকে খাদ্য ও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল করার প্রয়াসে নিবেদিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান ও গবেষণায় বিশ্বমানের কলাকৌশলসমুহ প্রয়োগে যত্নশীল। তিনি ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে দেশ ও বিদেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সাথে বেশ সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশে বায়োটেকনোলজি শিক্ষায় একটি পরিবর্তন আনতে সচেষ্ট। দেশে এই প্রথম কোনো গবেষক স্ট্রবেরি উত্পাদর শীর্ষক একটি প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে চলেছেন।
তিনি বলেন, একদিন টমেটো ছিল আমাদের কাছে স্ট্রবেরির মত অচেনা একটি ফল। টমেটো আজ আমাদের অন্যতম মুখরোচক খাবার। যথাযথ প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও তা খামারির মধ্যে সম্প্রসারণ করতে পারলে দেশে চাহিদা পূরণ করে স্ট্রবেরি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অন্যতম সহায়ক হবে বলে আমার মনে হয়।
তিনি আরো বলেন, তরুণদের সহযোগিতা এবং উত্সাহ দানের পাশাপাশি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে নতুন কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে আমি বদ্ধ পরিকর।